• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বুড়িচংয়ের হরিনধরায় গোমতী নদী ও জৈন্তার খাল পরিদর্শন ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় ধামসোনা ইউনিয়ন বাসির আস্থার নাম মানবিক ইসরাফিল সাভার ডিবির বিশেষ অভিযানে ১ জন পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সদস্য গ্রেফতার বুড়িচংয়ের নিমসারে গড়ে উঠছে আধুনিক সবজি সংরক্ষণাগার: কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ—মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন আসছে, ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড: শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে মইনীয়া যুব ফোরামের মানববন্ধন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তানোরে অনুমতি ছাড়াই গভীর রাতে মাটি উত্তোলন: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার কিনব্রিজের নিচে সুইপার কলোনী যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে   ডিবি (উত্তর) অভিযানে ১ কেজি ৫০০গ্রাম গাঁজাসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়া জামগড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিমেল মীরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪

তানোর গোদাগাড়ী-১ আসনটি হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে এগিয়ে ধানের শীষ মাঠে সক্রিয় বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দিন, ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত প্রার্থীও

Reporter Name / ১২১ Time View
Update : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

ইতোমধ্যেই উভয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এখনও শুরু হয়নি, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দুই প্রার্থীই দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে মতবিনিময় ও কুশলাদি বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে জামায়াত প্রার্থীর তুলনায় বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দিন কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তিনি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিনের আপন বড় ভাই। ব্যারিস্টার আমিনুল হক ১৯৯১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তাঁর হাত ধরেই তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় উন্নয়নের জোয়ার বইতে শুরু করে।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হলেও ওই বছর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালে বিএনপি–জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন ব্যারিস্টার আমিনুল হক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। এ সময় দুই উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন তিনি। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়ে হ্যাটট্রিক গড়েন ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তবে ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এরপর ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচন’ বিএনপি বর্জন করে।
২০১৯ সালে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মৃত্যুর পর তানোর–গোদাগাড়ী এলাকায় বিএনপি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। সেই শূন্যতা পূরণ করে দলের হাল ধরেন তাঁর ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানে যত বড় প্রার্থীই দাঁড় করানো হোক না কেন, ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করা সহজ হয়নি। তৃণমূলের ভোটার মিলন, নাসির ,সমিরুল মালেক সহ একাধিক ভোটার জানান,

“বিগত তিনটি নির্বাচনে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এবার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে। এলাকার উন্নয়নের জন্য ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই।”
নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে
তানোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান বলেন,
“এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি, তাই ধানের শীষের জোয়ার পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। প্রচারণা শুরু হলে সবাই বুঝবে ধানের শীষের শক্তি কতটা। ধানের জোয়ারে অন্যরা ভেসে যাবে।”
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক মণ্ডল বলেন,
“আগামী নির্বাচন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। এটি দেশ রক্ষার নির্বাচন। তাই ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে মন জয় করতে হবে। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে হলে শরীফ উদ্দিনের বিকল্প নেই।”
সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান আহম্মেদ বলেন,“দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে নারী-পুরুষ সবাই ধানের শীষে ভোট দিতে উদগ্রীব। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।”
শরীফ উদ্দিনকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান বলেন,“ব্যারিস্টার আমিনুল হকের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। তাঁর মতো নেতা পাওয়া কঠিন। তবে তাঁর মৃত্যুর পর আমরা তাঁর ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিনকে নেতা হিসেবে পেয়েছি—এটি আমাদের সৌভাগ্য। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব ছিলেন, এমন ব্যক্তিত্বকে নেতা হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত।তিনি আরও বলেন,
“দলীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। আশা করছি দীর্ঘ সময় পর এই আসন পুনরায় ধানের শীষের মাধ্যমে উদ্ধার হবে এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd