মোঃ শাহজাহান বাশার
প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শুক্রবার (গতকাল) বিকেলে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আটটি জেলা এবং রংপুর অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ১৯৮০ সালের অ্যাক্ট—যেটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রণয়ন করেছিলেন—সেটিকে আমি পুনরায় সংশোধন করছি এবং এটি সংসদে উপস্থাপন করব। কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
এর আগে একই দিন দুপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে যদি কোনো দুর্বলতা থেকে থাকে, আমি প্রতিটি বিষয় অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখব, মাইক্রো লেভেলে দেখব। কোনো মেধাবী প্রার্থী যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা হবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যকে পরীক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। সংশোধিত আইন সংসদে পাস হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।