মোঃ শাহজাহান বাশার
বিজয় দিবস কোরআন ও সুন্নাহ অনুসারে উদযাপন করতে হবে নফল নামাজ, দান-খয়রাত ও দেশের জন্য আত্মনিবেদন করে
আজ ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন—মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো মাতৃভূমিকে ভালোবাসা। এই দেশভক্তির শিক্ষা ইসলামও সমর্থন করে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগের সময় ইয়াছরিবের (মদিনা) পথে অশ্রু ফেলেছিলেন এবং অন্তরে বলেছিলেন, “হে মক্কা! আমি তোমাকে ভালোবাসি। যদি কাফেররা আমাকে বের করে না দিত, আমি কখনো তোমাকে ত্যাগ করতাম না।” (তাফসিরে ইবনে কাসির, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪০৪)
হাদিসে আছে, নবীজি মদিনা নগরীকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে উহুদ পাহাড় দেখলে তার মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে উঠত। তিনি বলতেন, “এই উহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও উহুদ পাহাড়কে ভালোবাসি।” (সহিহ বোখারি, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৩৯; সহিহ মুসলিম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৯৩)
বিজয় দিবসে আমাদের করণীয়ও স্পষ্ট। কোরআনে দুটি সূরা—ফাতহ (বিজয়) ও নাসর (সহায়তা)—বিজয়ের দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে। বিশেষ করে সুরা নাসর নির্দেশ দেয়: “যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় আসবে এবং দলে দলে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করো ও ইস্তিগফার করো।” এখানে তিনটি বিষয় নির্দেশিত:আল্লাহর মহত্ব ও বড়ত্ব স্বীকৃতি। বিজয়ের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়। আল্লাহর দরবারে আত্মনিবেদন ও ইস্তিগফার।
বিজয় দিবসের উদযাপন নবীর আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। মক্কার বিজয়ের সময় নবীজি কোনো গর্ব, শোভাযাত্রা বা বাদ্যবাজনা করেননি। উষ্ঠ্রীর ওপর বসে বিনয়ের সঙ্গে প্রবেশ করে প্রথমে উম্মে হানীর ঘরে ৮ রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছিলেন, যা ‘বিজয়ের নামাজ’ নামে পরিচিত। এরপর হারামে প্রবেশ করে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আজ আমি তোমাদের সকলের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করলাম। তোমাদের থেকে কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না।” (সুনানে বাইহাকী, ৯ম খণ্ড, পৃ. ১১৮)
ইসলামের এই শিক্ষা আমাদের শেখায় যে বিজয় শুধুই রাজনৈতিক বা সামরিক নয়; শান্তি, মহানুভবতা ও উদারতার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করাই প্রকৃত বিজয়।
সুতরাং বিজয় দিবসে আমাদের করণীয় হলো:নফল নামাজ আদায় ও তাসবিহ-তাহমিদ পাঠ করে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।কোরআন তিলাওয়াত ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া শহীদদের রূহের প্রতি শ্রদ্ধা।দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈষম্য মুক্ত, সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে প্রত্যয় গ্রহণ।
১৬ ডিসেম্বর শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি আমাদের ইসলামের আদর্শ ও মাতৃভূমি প্রেমের শিক্ষা উপলব্ধি করার দিন।