নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি
বর্তমান সমাজে সাধু সাজতে চাওয়া মানুষের অভাব নেই। কথা ও পোশাকের চাকচিক্যে কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের নিষ্পাপ ও পরম সৎ হিসেবে উপস্থাপন করার একটি প্রতিযোগিতা যেন চারপাশে স্পষ্ট। কিন্তু প্রকাশ্য রূপের এই প্রদর্শনী আর ভেতরের প্রকৃত সত্যের মাঝে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে—তা আমরা একটু গভীরভাবে খেয়াল করলেই বুঝতে পারি। প্রকৃত প্রশ্নটি সেখানেই এসে থামে: জীবনের কঠিন বাস্তবতায় ও প্রতিকূলতার মুখে টিকে থেকে সততা ও বিবেককে বিসর্জন না দিয়ে কজন মানুষ শেষ পর্যন্ত নীতিতে অটল থাকতে পারে?
লোকদেখানো ভালো মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। সামান্য বাহ্যিক অভিনয়, দু-চারটি নীতিবাক্য কিংবা সামাজিক সুবিধার জন্য তৈরি মুখোশ পরে সহজেই জনসম্মুখে ‘সাধু’ হওয়া যায়। এর পেছনে অনেক সময় থাকে সাময়িক সুনাম কুড়ানো, হাততালি পাওয়ার লোভ কিংবা কোনো কায়েমী স্বার্থ হাসিল করা। কিন্তু যখনই স্বার্থে আঘাত লাগে বা কোনো বড় লোভ সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন সেই কৃত্রিম মুখোশ খুলে পড়তে বেশি সময় লাগে না। মূলত সুযোগের অভাবেই অনেক সময় আমরা নিজেদের সৎ ভেবে ভুল করি; প্রকৃত সততার পরীক্ষা তো তখনই হয়, যখন অন্যায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মানুষ নিজের নীতি থেকে একচুলও সরে দাঁড়ায় না।
সংগঠক ও সংবাদকর্মী হিসেবে সমাজের নানা স্তরের মানুষকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে এটাই স্পষ্ট হয় যে, পোশাক কিংবা কথায় সাধু সাজা যায়, কিন্তু কর্মে ও চিন্তায় সাধু থাকাটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এর জন্য প্রয়োজন ভেতরের লোভ, হিংসা ও অহংকারের সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করা। প্রলোভনের মুখেও নিজের বিবেককে জাগ্রত রাখা অত্যন্ত কঠিন এক সাধনা।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজে সাধুর সাজে মানুষের পদচারণা অনেক হলেও লোকচক্ষুর আড়ালে নিজের সত্য ও নীতি ধরে রাখা মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। বাহ্যিক রূপ দিয়ে সাময়িক হাততালি হয়তো মেলে, কিন্তু ইতিহাস ও মানুষের মনে কেবল তারাই টিকে থাকেন, যারা সাজার বদলে শেষ পর্যন্ত সততার সাথে ‘সাধু হয়ে থাকতে’ পেরেছেন।