জাহিদ হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকলকে জানাই শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তাদের জীবন সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক—এই কামনা করি।
আমাদের এ দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহুধর্মাবলম্বী মানুষের মিলনস্থল। এখানে প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে পরম উৎসাহ-উদ্দীপনায়। এটি কেবল একটি ঐতিহ্য নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যেরই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। শরতের কাশফুল ও প্রকৃতির রূপ জানান দেয় আনন্দ উৎসবের আগমনী বার্তা। আর এই উৎসবের মর্মকথা হলো—অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়া।
একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, উৎসব মানেই পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা জাগ্রত করা। আমাদের সংবিধান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান নিরাপত্তা ও অধিকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
পবিত্র হাদিসেও বলা হয়েছে—“যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় থাকা কোনো অমুসলিমকে কষ্ট দেয়, তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বা জুলুম করে—কিয়ামতের দিন আমি তার বিরুদ্ধে অবস্থান করব।” নবী করিম (সা.)-এর এই বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং আমাদের সবার নৈতিক কর্তব্য।
আমরা চাই না, কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কিংবা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার লোকেরা ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করুক। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করবো—সতর্ক ও সজাগ থেকে যেনো দেশের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান—আপনারা নিশ্চিন্তে, উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে দুর্গোৎসব উদযাপন করুন। সম্প্রীতির বার্তা চারদিকে ছড়িয়ে দিন।
আমার রাজনৈতিক দল বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা ও অধিকার সবার।”
সবশেষে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে বিএনপি তথা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এবারের দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক শান্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক মহামিলন।