রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশ আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার প্রাণপুর গ্রামের কৃষ্ণপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পলাশ আলী উপজেলার প্রাণপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মাথার ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই দেন। বর্তমানে তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত পলাশ আলীর অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তিনি শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে কৃষ্ণপুর মোড় এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা করেন। পারিবারিক পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পলাশ আলী বলেন, হামলাকারীরা তাকে আটকে রশি দিয়ে বাঁধার চেষ্টা করেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তার ওপর আঘাত করা হয়। হামলার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়।
তিনি আরও জানান, হামলার পর এক বন্ধুর সহায়তায় তাকে দ্রুত তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার মাথার ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই দেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আরাফাতুল আলম (৩৭), আফজাল হোসেন (৩৩), আফসার আলী (৩৫) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৪২)-এর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন পলাশ আলী। অভিযোগে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বাড়ি উপজেলার প্রাণপুর ও জুমারপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এনসিপির নেতার বক্তব্য
রাজশাহী জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুরশেদ আলী বলেন, পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে পলাশ আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং হামলায় কারা জড়িত তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পলাশ আলীকে মারধর ও জখমের অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় তানোর থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত ছিলেন—তা পুলিশি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।