আহমেদ আকবর
সিলেট দক্ষিণ সুরমা
সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার দক্ষিণ সুরমার অতি পরিচিত কয়েকটি স্পট এখন মাদকের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক কিন ব্রিজের নিচে, রেলওয়ে সুইপার কলোনি এবং সংলগ্ন কুমিল্লা পট্টি এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে কোটি কোটি টাকার মাদকের রমরমা ব্যবসা। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই এখানে হাত বাড়ালেই মিলছে সর্বনাশা ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের চোরাই মদ।ওপেন সিক্রেট মাদক বাণিজ্য সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই তিনটি স্পট যেন একটি সমন্বিত মাদক নেটওয়ার্ক। কিন ব্রিজের নিচের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশকে ব্যবহার করা হয় মাদক সেবন ও হাতবদলের নিরাপদ স্থান হিসেবে। অন্যদিকে, সুইপার কলোনি ও কুমিল্লা পট্টিতে গড়ে উঠেছে মাদকের স্থায়ী আস্তানা ও পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আনাগোনা থাকে চোখে পড়ার মতো।কোটি টাকার লেনদেন ও ভাসমান সিন্ডিকেটঅনুসন্ধানে জানা যায়, এই এলাকায় প্রতিদিন অন্তত কয়েক কোটি টাকার মাদকের অবৈধ লেনদেন হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসা মাদকের বড় বড় চালান প্রথমে এই স্পটগুলোতে এসে পৌঁছায়।
এরপর এখান থেকে খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সিলেট শহর ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। মাদক ব্যবসার সুবিধার্থে এখানে নারী ও শিশুদেরও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে মূল হোতারা।অপরাধের বিস্তার ও স্থানীয়দের উদ্বেগমাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারের কারণে দক্ষিণ সুরমার কদমতলী, রেল স্টেশন ও কিন ব্রিজ এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন!
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই স্পটগুলোর মাদক ব্যবসার কথা ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও অদৃশ্য কোনো শক্তির কারণে মূল অপরাধীরা সবসময়ই পার পেয়ে যাচ্ছে।প্রশাসনের বক্তব্য ও তৎপরতাবিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে। কিন ব্রিজ ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে সুইপার কলোনি ও কুমিল্লা পট্টির মাদক সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং দ্রুতই বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হবে।এলাকাবাসীর দাবি, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং এই ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বারকে কলঙ্কমুক্ত করতে কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং মাদকের এই কোটি টাকার মূল হোতা ও গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।