আহমেদ আকবর
সিলেট দক্ষিণ সুরমা
পারিবারিক প্রতারণার বিবরণসহ):মুখোশ উন্মোচন: খোঁজারখলার সুবেলের পেছনে রয়েছে পুরো পরিবার! বছরখানেক আগে প্রবাসীদের ২ লাখ টাকা লুটের চাঞ্চল্যকর তথ্য সিলেটের খোঁজারখলা এলাকায় মানবতার সুযোগ নিয়ে জঘন্য প্রতারণায় মেতে ওঠা সুবেলের খুঁটির জোর এবার জানা গেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই বাটপারি সুবেল একা করত না; বরং তার পেছনে রয়েছে তার পুরো পরিবার। আজ থেকে প্রায় বছরখানেক আগে এই পুরো পরিবার মিলেই প্রবাসীদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিশন শুরু করেছিল।পারিবারিক সিন্ডিকেটের আন্তর্জাতিক ফাঁদ:খোঁজারখলার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে সুবেল তার পরিবারকে সাথে নিয়ে একটি সুসংগঠিত চক্র গড়ে তোলে। এলাকার প্রকৃত কিডনি রোগী আহমদ জামিলের ছবি ও ‘মানুষের জন্য’ পেজের ভিডিও (যেখানে ৭২ লাখ টাকা প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে) ব্যবহার করে তারা প্রবাসীদের টার্গেট করে। সুবেল ছিল মাঠপর্যায়ের ঘুঁটি, আর তার পরিবার পেছন থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা রিসিভ করত। এভাবে তারা প্রায় ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।প্রমাণসহ হাতেনাতে ধরা এবং পরিবারের অপরাধ স্বীকার:পাপের ঘড়া যখন পূর্ণ হয়, তখন খোঁজারখলা পশ্চিম মহল্লার আহমদ জামিলের পরিবার সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ ও ট্রানজেকশন হিস্ট্রি জোগাড় করে। এরপর সুবেল ও তার পরিবারকে এলাকার মুরুব্বিদের সামনে হাতেনাতে ধরে বাড়ির আশেপাশে এক শালিস-বিচারের মুখোমুখি করা হয়। মুরুব্বিদের করা জেরার মুখে সুবেলের পরিবার নিজেদের অপরাধ ও প্রতারণার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে জরিমানাস্বরূপ নগদ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সে যাত্রা রক্ষা পায় এই বাটপার পরিবার।স্বভাব যায়নি, এখনো চলছে প্রতারণা:বছরখানেক আগে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ধরা খেয়ে জরিমানা দেওয়ার পরও এই চক্রের স্বভাব বদলায়নি। সুবেল এখনো সেই পুরোনো পারিবারিক কায়দাতেই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আহমদ জামিলের ছবি দেখিয়ে টাকা তুলতে গিয়ে একাধিকবার জনগণের হাতে ধরা খেয়েছে। খোঁজারখলার মুরুব্বিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আশ্রিত এই সমসু মিয়ার পরিবারের প্রতারণার দায় এলাকার কেউ নেবে না।