হামিদুর রহমান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরে মো. রফিকুল ইসলাম (২৬) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে আটকে রেখে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছা. সামছুর নাহার। তানোর উপজেলার ধানোরা গ্রামের মোছা. সামছুর নাহার তার স্বামী রফিকুল ইসলাম মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে তানোর থানাধীন কামারগাঁ ইউনিয়নের ধানোরা গ্রামের একটি চায়ের দোকানের কাছে তিনি চা খেতে যান। চা খাওয়া শেষে রফিকুল মোটরসাইকেলে ওঠার পর আগে থেকে পরিকল্পনা করে থাকা একই গ্রামের আব্দুল লতিফ (৩৮) ও ভোলা ওরফে বাবু (৩৫) তার মোটরসাইকেলের পেছনে বসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। পরে তারা রফিকুলকে তার বাড়িতে না নামিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা রফিকুলকে আটকে রেখে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী সামছুর নাহারের সঙ্গে কথা বলান। এ সময় তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করে।
সামছুর নাহার, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এত টাকা দিতে পারবেন না জানিয়ে সময় চান। এরপর অভিযুক্তরা তার স্বামীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর তিনি জানতে পারেন, রফিকুলকে অভিযুক্তদের একজনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে মারধর করা হচ্ছে বলেও তিনি জানতে পারেন।
সামছুর নাহার আরও উল্লেখ করেন, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার স্বামীকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে কয়েকজন মেয়ের উপস্থিতিতে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে ওই মেয়ের সঙ্গে রফিকুলের বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি জানতে পেরে সামছুর নাহার ও তার স্বজনরা রফিকুলকে উদ্ধার করতে অভিযুক্তদের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেন।এ সময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি রফিকুলকে ওই মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসানকে জানানো হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ বিষয়টি জানার পর রাতভর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালালেও ওই রাত পর্যন্ত রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রফিকুল ইসলামকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।