হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরে আমন ধানের মাঠে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। হঠাৎ করেই এ পোকা দলে দলে ধানক্ষেতে নেমে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। প্রতিদিন সকাল-বিকেল জমিতে বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না তারা। ফলে নষ্ট হচ্ছে স্বপ্নের ফসল, বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিনে তানোর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমন ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক জমিতে ধানগাছ শুকিয়ে বাদামী হয়ে যাচ্ছে। গাছের গোড়ায় ভিড় জমিয়েছে কারেন্ট পোকার ঝাঁক।

কৃষকরা জানান, এ বছর মৌসুমের শুরুতে পানি সংকট বা চারা রোপণে তেমন সমস্যা হয়নি। তবে সার ও পটাশের দাম ছিল অনেক বেশি। তবুও অনেক কষ্টে বেশি দামে সার কিনে তারা ধান চাষ করেছেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই কারেন্ট পোকার আক্রমণে সব পরিশ্রম যেন মাটি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মোহর গ্রামের মিলন হোসেন বলেন,
“দিনে দুইবার কীটনাশক দিচ্ছি, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। গাছের গোড়া থেকে গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে ধানের খরচই উঠবে না।”
আরেক কৃষক নাসির হোসেন বলেন, বাজারে অনেক কোম্পানির ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোনটা আসল, কোনটা নকল বুঝে উঠতে পারছি না। নকল ওষুধ কিনে টাকা নষ্ট করছি, ফসলও বাঁচছে না।”
কৃষকদের অভিযোগ, এ সময় মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অনেক কৃষক জানালেন, কৃষি অফিসে গিয়েও কার্যকর কোনো পরামর্শ পাচ্ছেন না তারা। তানোর উপজেলার কৃষকরা বলছেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে ধান বাঁচাতে তারা বারবার পরামর্শ চাইছেন, কিন্তু কৃষি অফিস থেকে কেউ মাঠে আসছেন না।

একজন ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন,
আমরা সকালে অফিসে গিয়ে বলেছি, ফসল শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কর্মকর্তারা শুধু বললেন, ওষুধ দেন — কোন ওষুধ তা বলেননি!
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানগাছ দ্রুত শুকিয়ে পড়ে যায় এবং ফলন অর্ধেকে নেমে আসে। সময়মতো সঠিক কীটনাশক ও মাঠ পর্যায়ের পরামর্শ না পেলে পুরো এলাকার ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কৃষকরা বলছেন, যদি এখনই উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম না নেওয়া হয়, তবে এ বছর আমন ফসলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে তানোরের শত শত কৃষক।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা হলে কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা বিষয়টি জানি, মাঠে রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। তবে আক্রমণ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
তানোরের কৃষকরা দ্রুত মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা, সঠিক পরামর্শ ও আসল কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, প্রশাসন ও কৃষি দপ্তর যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তবে তানোরের ধানচাষীরা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।