মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চলমান বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী ৫-৬ ঘণ্টা ধরে থাকতেছে না বিদ্যুৎ। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনাও নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সন্ধ্যার পর স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে বসলে চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। ফিরে যেতে হচ্ছে আগের দিনের মোমবাতি হারিকেন ও চেরাগ জ্বালাতে হয়। এ গরমের মধ্যে শরীরে ঘাম নিয়ে শিশুদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে। প্রচন্ড ঘেমে যাওয়ার কারণেও অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বর্তমান গরম আবহাওয়ায় এই পরিস্থিতি আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, যা তাদের মানসিক চাপও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবাতেও। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি সেবায়ও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শুধু এলাকাই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানাও এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা। পাশাপাশি হঠাৎ বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আবার লাইনের সমস্যার কথা বলা হলেও দ্রুত সমাধান না হওয়ায় ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
সবমিলিয়ে, আনোয়ারার মানুষ আজ বিদ্যুৎ সংকটে এক নীরব দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।