• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার কিনব্রিজের নিচে সুইপার কলোনী যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে   ডিবি (উত্তর) অভিযানে ১ কেজি ৫০০গ্রাম গাঁজাসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়া জামগড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিমেল মীরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ বুড়িচং এ ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে বাম্পার বোরো ফলন সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক, তবে দুশ্চিন্তায় বাজার ও মৎস্যজীবীরা বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, ভান্ডারিয়ায় সংবর্ধিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ আনোয়ারায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা! ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আনোয়ারায় সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা সড়কের, জনদুর্ভোগের শেষ নেই অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা: সম্ভাবনা, সংকট ও দায়বদ্ধতার নতুন দিগন্ত

তানোর জুড়ে আম–লিচুর সোনালি মুকুলে সুবাসিত গ্রামবাংলা

Reporter Name / ১৬৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :

তানোর উপজেলাজুড়ে এখন আম গাছের ডালে ডালে উঁকি দিচ্ছে সোনালি রঙের মুকুল। পাশাপাশি লিচু গাছেও মুকুল বের হতে শুরু করেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমবাগান সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে বাগানে সোনালি আভায় সেজে উঠেছে গাছপালা। মুকুলের ম-ম সুবাসে গ্রাম-মহল্লাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বসন্তের আমেজ।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় প্রতিটি আম গাছেই ভালোভাবে মুকুল ফুটেছে। অনেক বাগানে একসঙ্গে গাছে গাছে মুকুল দেখা যাচ্ছে, যা দেখে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন আম চাষিরা।
স্থানীয় চাষিরা জানান, গত বছর অনেক গাছে মুকুল এলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ঝড়ো হাওয়া ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে আগেভাগেই ঝরে পড়ে কিংবা জ্বলে যায় মুকুল। ফলে প্রত্যাশিত ফলন পাননি তারা। তবে এবার শুরু থেকেই গাছের পরিচর্যায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
তানোর পৌর এলাকার একাধিক গ্রামের আম চাষিরা জানান,
গাছে নিয়মিত ভিটামিন ও পুষ্টি স্প্রে করা হচ্ছে,
গাছের গোড়ায় দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সার,
মুকুলের গোড়া শক্ত রাখতে ফিতা বেঁধে পানি সেচসহ বাড়তি পরিচর্যা করা হচ্ছে।
চাষিদের ভাষ্য, মুকুলের গোড়া শক্ত না হলে পরে ফল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এবার আগেভাগেই সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন,“এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আম ও লিচু চাষের জন্য বেশ অনুকূলে রয়েছে। প্রায় সব গাছেই সোনালি মুকুল দেখা যাচ্ছে। এ বছর মুকুলের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি।”
তিনি আরও বলেন,“মুকুল আগাম জ্বলে যাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা থাকেই। তবে বর্তমানে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। এই মুহূর্তে অতিরিক্ত সেচ বা বৃষ্টির খুব একটা প্রয়োজনও নেই। ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময় যদি হালকা বৃষ্টি হয়, তাহলে তা ফলনের জন্য বেশ ইতিবাচক হবে।” কৃষি কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আম চাষিরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। তারা সারা বছর ধরেই সার, সেচ ও পুষ্টিসাইড ব্যবহার করে গাছের পরিচর্যা করে থাকেন। এর ফলে গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং মুকুল ও ফল ঝরে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পুরোনো ও নতুন বাগানেই একসঙ্গে মুকুল এসেছে। কোথাও কোথাও লিচু গাছেও একই সঙ্গে মুকুল দেখা যাচ্ছে। এতে করে আসন্ন মৌসুমে শুধু আম নয়, লিচুর ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাষিদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা হলো হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া কিংবা অতিরিক্ত তাপমাত্রা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং মুকুল ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে, চলতি মৌসুমে তানোরের আম চাষিরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন তারা।
সব মিলিয়ে সোনালি মুকুলে ভরে ওঠা তানোরের বাগানগুলো যেন ইতোমধ্যেই জানান দিচ্ছে—আসন্ন আম মৌসুম হতে পারে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd