• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
অপপ্রচার ও ফেক আইডির অন্ধকার জাল ভাঙতেই হবে মানহানীকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি দক্ষিণ সুরমায় জুয়ার রাজ্যে কাসেম ও অন্তর রাজা সিলেটে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা হ/ত্যা মামলায় এক যুবক গ্রেফ-তা*র ​দৌলতখানে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় সাজেদা ফাউন্ডেশনের ‘স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০’ প্রকল্পের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় দুই চোর গ্রেফতার আলীকদম থানার সাফল্য বিশেষ অভিযানে ৪৪ বছর এর সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার দেবীদ্বারে ২য় বাৎসরিক মাহফিলে শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.) শ্যামপুরে ম্যাগনেট দিয়ে মিটার বিকৃত করে গ্যাস চুরির অভিযোগে মের্সাস আলিজান স্টীল ইন্ডাস্ট্রির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ ভাণ্ডারিয়ার নাদিরা- দারিদ্র্য জয় করে ফুটবলে নতুন বিস্ময় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ রাজারবাগে ঐতিহাসিক প্যারেডে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অপপ্রচার ও ফেক আইডির অন্ধকার জাল ভাঙতেই হবে মানহানীকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মত প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও, এর অপব্যবহার এখন সমাজের জন্য ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক ফেক আইডি, সাইবার অপপ্রচার, চরিত্রহনন, ব্ল্যাকমেইল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানী এখন এক ধরনের নীরব সামাজিক সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই অপচক্রের শিকার হচ্ছে। কেউ হারাচ্ছে সামাজিক মর্যাদা, কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে, আবার কেউ পরিবার ও সমাজের কাছে অপমানিত হচ্ছে শুধুমাত্র কিছু অসাধু মানুষের বিকৃত মানসিকতার কারণে।

মানহানী বা চরিত্রহনন কোনো সুস্থ, সাহসী কিংবা বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না। এটি কাপুরুষের অস্ত্র। যারা সামনে এসে সত্যের ভিত্তিতে কথা বলতে পারে না, যারা যুক্তি ও নৈতিকতার লড়াইয়ে দুর্বল, তারাই আড়াল থেকে অপপ্রচার চালায়। তারা গোপনে ষড়যন্ত্র করে, মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

বর্তমান সময়ে একটি শ্রেণির প্রতারকচক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করছে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, আর্থিক প্রতারণা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে। তারা ভুয়া পরিচয়ে ফেক আইডি খুলে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা কিংবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। কখনো সম্পাদিত ছবি, কখনো মিথ্যা তথ্য, আবার কখনো বিকৃত বক্তব্য ছড়িয়ে মানুষের সম্মান নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

এসব কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ওপর। একটি মিথ্যা অপপ্রচার মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। এমনকি অনেক সময় নিরীহ মানুষ আইনি জটিলতা কিংবা সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হয় শুধুমাত্র কিছু অসুস্থ মানসিকতার মানুষের কারণে।

এই পরিস্থিতিতে মানব কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান ভূঁইয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি সিআইডি হেডকোয়ার্টার সাইবার পুলিশ সেন্টারে গিয়ে অপপ্রচারকারী ও ফেক আইডি পরিচালনাকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এটি নিছক ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়; বরং সমাজকে সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

বর্তমানে সাইবার অপরাধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে অপরাধীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে মানুষকে টার্গেট করছে। অনেক সময় দেখা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালায়। তারা মিথ্যা পোস্ট ভাইরাল করে, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে ডিজিটাল সন্ত্রাস সৃষ্টি করে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই এসব অপপ্রচারে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করে বসেন। কেউ কেউ আবার না বুঝেই শেয়ার করে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দেন। অথচ একটি শেয়ার, একটি মিথ্যা পোস্ট কিংবা একটি বিভ্রান্তিকর মন্তব্য একজন মানুষের পুরো জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই অবস্থায় প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। ফেক আইডি শনাক্তকরণ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এই অপচক্র কখনো থামবে না।

একইসঙ্গে সমাজের সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া শেয়ার না করা, অপপ্রচারকারীদের প্রশ্রয় না দেয়া এবং সামাজিকভাবে তাদের বর্জন করা এখন সময়ের দাবি। কারণ অপপ্রচারকে যারা নীরবে সমর্থন দেয়, তারাও এক ধরনের সামাজিক অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ে।

সাংবাদিক, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী কিংবা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার নতুন কোনো বিষয় নয়। ইতিহাস বলে, সত্যের পথে যারা হাঁটে তাদের বিরুদ্ধে সবসময়ই ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিথ্যার পরাজয় এবং সত্যের বিজয়ই হয়েছে।

মানুষের সম্মান নিয়ে খেলা করা কোনো স্বাধীন মত প্রকাশ নয়, এটি সরাসরি অপরাধ। তাই যারা ফেসবুক ফেক আইডির আড়ালে থেকে মানুষকে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও চরিত্রহননের মতো অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সমাজের শান্তি, মানুষের সম্মান এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কারণ নীরবতা কখনো অন্যায়ের সমাধান নয়। সত্যকে হয়তো সাময়িকভাবে চাপা দেয়া যায়, কিন্তু কখনো চিরদিনের জন্য মুছে ফেলা যায় না।

সময় আসছে। আইন তার নিজস্ব গতিতেই এগোবে। ষড়যন্ত্রকারী ও প্রতারকচক্রের মুখোশ উন্মোচিত হবেই— ইনশাআল্লাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd