মোঃ শাহজাহান বাশার
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বর্ণাঢ্য প্যারেড, কুচকাওয়াজ, কঠোর নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত “পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬”। রবিবার (১০ মে) সকাল ৯টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন।
সকালের কোমল আলোয় সজ্জিত রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স যেন পরিণত হয় এক অনন্য রাষ্ট্রীয় গৌরবের মঞ্চে। সুসজ্জিত পুলিশ সদস্যদের ছন্দময় পদচারণা, ব্যান্ড দলের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ পুরো অনুষ্ঠানকে এনে দেয় এক রাজকীয় আবহ। প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা রাষ্ট্রীয় সালামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানান।
অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা ও জনসেবায় বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ পুলিশের অবদানের প্রশংসা করেন এবং আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গঠনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে আরও মানবিক ও আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তর করতে হবে।”
বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিদেশি কূটনীতিক, অতিরিক্ত আইজিপিগণ, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, দেশের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজারবাগ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। আগত অতিথিদের জন্য রাখা হয় আধুনিক নিরাপত্তা স্ক্যানিং ব্যবস্থা ও বিশেষ প্রটোকল।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সকে সাজানো হয় বর্ণিল আলোকসজ্জা, জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগানে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও সমন্বিত কুচকাওয়াজ উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ আলোচনা সভা, সেমিনার, কৃতী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আধুনিক পুলিশিং নিয়ে মতবিনিময় সভা।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গৌরবের আবহে আয়োজিত এ প্যারেড দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সক্ষমতার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।