মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার দৌলতখানে কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (MHM) এবং সামাজিক কুসংস্কার প্রতিরোধে পরিচালিত ‘স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০: এমপাওয়ারিং ড্রিমস অব মেনস্ট্রুয়েটিং গার্লস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে ২০২৬) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাজেদা ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা জানান, বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে মাসিক নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও লোকলজ্জার কারণে কিশোরীরা প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। এই প্রকল্পটি মূলত সেই ‘স্লোয়েন্ট স্টিগমা’ বা নীরব সামাজিক জড়তা ভাঙার জন্য কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক কিশোরী শিক্ষার পরিবেশ থেকে পিছিয়ে পড়ে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং একটি সহায়ক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন।
কিশোরীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল একটি এনজিওর কাজ নয়, বরং পরিবার থেকে শুরু করে আমাদের সবার দায়িত্ব। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের নিজ নিজ দপ্তরের প্রেক্ষাপট থেকে কিশোরীদের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা মাসিকের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কিশোরীদের প্রতি সহিংসতা রোধে এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা।দেলোয়ার হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা। মমিনুল আলম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।জামাল হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।মাহাবুব আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। জাকির আলম, সভাপতি, দৌলতখান প্রেসক্লাব।আব্দুল্লাহ আল মামুন, সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।
সভার শেষ অংশে প্রকল্পের কার্যক্রমের একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে বিগত সময়ে দৌলতখান উপজেলায় কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার এবং মাসিককালীন পুষ্টি বিষয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা পরিসংখ্যানসহ তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে জানান, প্রকল্পের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাসিক নিয়ে লুকোচুরি কমেছে।
অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। বক্তারা এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর পরিধি আরও বিস্তারের আহ্বান জানান।
মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
দৌলতখান ভোলা প্রতিনিধি
০১৭১১৬৫৩১৯২