হামিদুর রহমান, তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি :
রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকার তানোর উপজেলায় ধান, আলু ও আম চাষে দীর্ঘদিন ধরে সাফল্য অর্জন করে আসছেন কৃষকরা। তবে এই অঞ্চলের কৃষিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পানির সংকট। শুষ্ক মাটি ও গভীর নলকূপনির্ভর কৃষির কারণে প্রায়ই ফসল উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে যায়। কিন্তু এবার সেই চিরাচরিত ধারা ভেঙে কিছু কৃষক দেখিয়েছেন নতুন দৃষ্টান্ত— মাচায় অফ-সিজনে তরমুজ চাষ।
তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের পাড়িশো গ্রামের দুই কৃষক খাইরুল ও জাকির প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ শুরু করেন। তারা ২৫ শতক জমিতে তরমুজের চাষ করেন, যা অবস্থিত পাড়িশো দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে।
উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে, গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে কয়েক জাতের তরমুজের বীজ বপন করা হয়। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ঝুলছে রঙ-বেরঙের তরমুজ—
যার মধ্যে রয়েছে রঙ্গীলা, আম্বার সুইট, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা জাত। চাষি জাকির হোসেন বলেন,
মৌসুমি তরমুজের তুলনায় অফ-সিজনের তরমুজের বাজারমূল্য অনেক বেশি। আমাদের তরমুজগুলো আরও ১২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে বাজারে তুলতে পারব। ইতোমধ্যেই স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা তরমুজ কিনতে যোগাযোগ করছেন। তিনি আরও জানান, এই নতুন পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে পানি সাশ্রয় হচ্ছে অনেক, পাশাপাশি জমির নীচে নয় বরং মাচায় ঝুলে থাকায় রোগবালাইও তুলনামূলকভাবে কম।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব ইসলাম জানান,

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে প্রথমবারের মতো মাচায় তরমুজ চাষে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন মিলেছে। এই পদ্ধতি পানিসংকটপূর্ণ এলাকায় অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
তিনি আরও বলেন, প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক মাচায় তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছি।
তানোরের কৃষক সমাজে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই নতুন ধরণের তরমুজ চাষ।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের শুষ্ক জলবায়ু ও পানিসংকট মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি হতে পারে কৃষি বিপ্লবের সূচনা। যদি এভাবে সফলতা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী মৌসুমে তানোরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে মাচায় তরমুজ চাষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।