জাহিদ হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচর থানার মুন্সিহাটি মুড়ি ফ্যাক্টরির সামনে রিকশাচালক আকরাম হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে তার কাছ থেকে নগদ ১,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় একদল দুর্বৃত্ত। তারা আকরামের অটোরিকশাটিও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আকরামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আকরামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে একই দিন তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। প্রিয়জন হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি ন্যায়বিচারের আশায় কামরাঙ্গীরচর থানায় অভিযোগ জানায়। থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) দিকনির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর চকবাজার থানা এলাকা থেকে মো. জীবন (২১) ও আশিক (২২) নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত গ্রেফতার প্রমাণ করে যে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, কামরাঙ্গীরচর শাখা এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও জননিরাপত্তায় পুলিশের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায়।