জাহিদ হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
রাজধানী ঢাকায় জীবিত অবস্থায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া যেমন ব্যয়বহুল, মৃত্যুর পর কবর পাওয়া তার চেয়েও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিন বাড়ছে চাপ, বাড়ছে কবরের দামও।
প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রতি মাসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫০ থেকে ৯০০টি এবং বছরে দাফন হয় ৯,০০০ থেকে ১০,৮০০টি লাশ। ফলে কবরস্থানের জায়গা সংকট ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করছে।

এই সংকট মোকাবিলায় চালু রয়েছে কবর লিজ ব্যবস্থা। আজিমপুর কবরস্থানে চার ধাপে লিজ দেওয়া হয় কবর—
১০ বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা
১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ টাকা
২০ বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকা
২৫ বছরের জন্য ২০ লাখ টাকা
অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে কবর লিজ নিতে হলে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ফ্ল্যাটের দামের সমান কিংবা তারও বেশি। ফলে মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানা পাওয়াও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি প্রদানের পরও অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও প্রভাবশালী মহলের কারণে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। অনেকে বলছেন, ফ্ল্যাটের মতো কবরও এখন বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে নতুন কবরস্থান তৈরির উদ্যোগ না থাকায় এ সংকট আরও গভীর হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, মৃত্যুর পর কবর বাণিজ্যে রূপ নেওয়া একটি ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক সংকট, যা সরকারের নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।
ঢাকার মানুষের এখন এক করুণ বাস্তবতা—বেঁচে থাকতে ফ্ল্যাটের দাম নাগালের বাইরে, আর মৃত্যুর পর কবরের দামও ফ্ল্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে।