• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সুন্দর প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপে লজ্জার রেকর্ড গড়লেন মেসি ষড়যন্ত্র মূলক অপপ্রচারের শিকার ঝালকাঠির নবাগত পুলিশ সুপার বদরুল আলম তানোরে তসলিমা ইলেক্ট্রনিক্স ও ওয়ালটন শোরুমে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুরগিটোলায় জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৩ তানোরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত রাজধানীতে শাহাদাত-এ কারবালা মাহফিল মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশের দুই সাংবাদিক

মাদকের জোয়ারে ভাসছে কুমিল্লা: সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন আসছে গাঁজা-ইয়াবা, ছড়িয়ে পড়ছে মহানগরের পাড়া-মহল্লায়

Reporter Name / ২৬১ Time View
Update : শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলাজুড়ে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের করাল গ্রাস। জেলার পাঁচটি উপজেলার বিস্তৃত ১০৩ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্তপথ এখন হয়ে উঠেছে নেশার সাম্রাজ্যের প্রবেশদ্বার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে আসছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিদেশি মদসহ নানা ধরনের ভয়ংকর মাদকদ্রব্য। এগুলো মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লায় দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম, মেঘনা ও দাউদকান্দি উপজেলা দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা সংলগ্ন সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত পথগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে মাদক পাচারের প্রধান রুট হিসেবে। বিভিন্ন সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করলেও পুরো চক্রকে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। চোরাকারবারীরা সীমান্তের কাঁটাতার ও অরক্ষিত ফাঁকফোকর দিয়ে নিয়মিত পাচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কুমিল্লা মহানগরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডেই এখন কমপক্ষে ২ থেকে ৫টি মাদক স্পট গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে গোমতী নদীর দুই পাড়ে— রাজগঞ্জ, মুড়াপাড়া, চর্থা, ধর্মপুর, ময়নামতি, দারোরা, গোমতী পাড়সহ অন্তত ২০টির বেশি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে। সন্ধ্যা নামলেই কিছু নির্দিষ্ট বাড়ির ছাদ, পরিত্যক্ত ঘর বা দোকানঘর মাদকসেবীদের আড্ডা কেন্দ্রে পরিণত হয়।

মাদকের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে কুমিল্লার তরুণ সমাজ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সহজেই এসব মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়তই নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খুন, আত্মহত্যা, গ্যাং কালচারের পেছনেও মাদকের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু সদস্য এসব মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে জড়িত। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযানে দু-একজন টোকাই বা মাদকের বাহককে আটক করলেও মূল হোতারা রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ রুট ও স্পটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারির অনুপস্থিতিও মাদকের বিস্তারে বড় অবদান রাখছে।

সাবেক শিক্ষক ও সমাজকর্মী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মাদকের কারণে আমাদের সমাজ আজ চরম সংকটে। প্রশাসন চাইলে প্রতিটি স্পট এক মাসের মধ্যেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।”

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের এক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তবে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও পুলিশের অসহযোগিতা এই যুদ্ধে বড় বাঁধা।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক প্রবেশ বন্ধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।”

কুমিল্লায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এখন সামাজিক বিপর্যয়ের চেহারা নিয়েছে। প্রশাসন, রাজনীতিক ও সমাজ সচেতন মহল একযোগে উদ্যোগ না নিলে কুমিল্লার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নেশার ঘোরেই হারিয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd