পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় এক ইউপি সদস্য এবং তার ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় ইউপি সদস্যের স্ত্রীকেও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে যখন করে হামলাকারীরা।
শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর বলেশ্বর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৫০) চন্ডিপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং মাকুলী বেগম (৫২) তার বড় ভাই মর্তুজা হাওলাদারের স্ত্রী। নিহত শহিদুলের ভাই মনিরুজ্জামান সেলিম হাওলাদার ইন্দুরকানি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার তোয়া জানায়, শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে তার বাবা শহিদুল বাড়ির সামনের পুকুর ঘাটে বসা ছিল। এ সময় প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী ইউনূস হাওলাদার, নিহত শহিদুল এর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী রফিকুল ইসলাম হাওলাদার ও রফিকুলের ভাই লিটন হাওলাদার সহ আরো ৫-৬ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাবার উপর হামলা করে। এ সময় রফিকুলের স্ত্রী রেহানা বেগম ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী মাকুলী বেগম তাকে রক্ষা করতে দৌড়ে সেখানে গেলে, হামলাকারীরা তাদেরকেও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে যখন করে। এ সময় শহিদুল এবং মাকুলীর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। এমনকি অভিযুক্ত ইউনুস নিহত শহিদুলের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত শহিদুলের স্ত্রী রেহানাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রবাসী ইউনুস প্রায় দেড় মাস আগে বিদেশ থেকে বাড়িতে ফিরেছে। তার স্ত্রীর সাথে নিহত শহিদুলের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে এই সন্দেহ তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একবার এর আগে সালিশ বৈঠকও হয়েছিল।এছাড়া অন্যান্য নারীদের সাথে পরকীয়ার অভিযোগ ছিল নিহত শহিদুলের বিরুদ্ধে।
এদিকে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিরোজপুর সদর সার্কেলের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান। তিনি জানান হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।