মো, মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মেদুয়া ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, উসকানি এবং নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তুলেছে।
ঘটনার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভোটের মাঠে এমন সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে এবং সাধারণ ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিএনপির অভিযোগ: “বহিরাগতদের শোডাউনে শুরু উত্তেজনা”
মঙ্গলবার রাতে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের রাজনৈতিক সমন্বয়ক আকবর হোসেন দাবি করেন, জামায়াত সমর্থিত কিছু লোকজন মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালাতে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
তিনি বলেন, লাঠিসোঁটার সঙ্গে জাতীয় পতাকা ব্যবহার এবং মুখে হেলমেট পরে এলাকায় প্রবেশ করায় স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলে। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন সাধারণ বাসিন্দা, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী নন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আকবর হোসেন আরও অভিযোগ করেন, “পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।”
বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠে আসে—এমপিওভুক্ত কিছু শিক্ষক নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, তা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
দলটির দাবি, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
জামায়াতের পাল্টা বক্তব্য: “শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে হামলা”
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী একই রাতে তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
দলের আমির মাওলানা হাসান তারেক হাওলাদার বলেন, তাদের শান্তিপূর্ণ প্রচার কার্যক্রমে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দেয় এবং হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
জামায়াত নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি ভোটারদের ভয় দেখিয়ে দমন করার একটি অপচেষ্টা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন: প্রশাসন কোথায়?
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় উত্তেজনার পরও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনের মাঠে সহিংসতা বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে ভয় পাবে।
দুই পক্ষই ঘটনার জন্য অপর পক্ষকে দায়ী করলেও এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
দৌলতখানে নির্বাচনী প্রচার যতই সামনে এগোচ্ছে, ততই সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মো, মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
দৌলতখান ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬