• সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল রিপোর্টের বলি নবজাতক: ক্ষোভে ফুঁসছে ফকিরহাট তানোরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্ত আপন চাচা, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ভাণ্ডারিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ফকিরহাটে ইটের সলিং রাস্তার নির্মাণকাজের উদ্বোধন হাজী আব্দুল আউয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম গেট থেকে ময়লার স্তূপ অপসারণ, স্বস্তি ফিরল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ​দৌলতখানে ‘ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা র‍্যালি ঢাকা জেলা ডিবি উত্তর এর বিশেষ অভিযানে ৩ জন মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদ আইয়ুব খান ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার তানোরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৭ গরু ও ২ বুনো শিয়ালের মৃত্যু বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের দাবি

তানোরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্ত আপন চাচা, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

Reporter Name / ৪২ Time View
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

হামিদুর রহমান, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোর উপজেলার আড়াদীঘি গ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই আপন চাচার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজনরা তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠিয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আড়াদীঘি গ্রামের বাসিন্দা মোসা. সুমাইয়া বিবি তার স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম এবং ননদের স্বামী মো. শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত মো. মকবুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী মোসা. সালমা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও নানা জটিল অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি তার স্বামী মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে মোহনপুর উপজেলার হরিশচন্দ্রপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পারিবারিক ও আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে গত ২৩ মে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে তার আপন চাচা মো. মকবুল তাকে নিজ বাড়ি আড়াদীঘি গ্রামে নিয়ে আসেন।
এরপর থেকে সালমা তার চাচার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা নিয়মিত খোঁজখবর নিলেও মূলত সুমাইয়া বিবিই তার দেখাশোনা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ জুন ভোরে প্রতিদিনের মতো সালমার পরিচর্যার জন্য অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে সুমাইয়া বিবি ভুক্তভোগীকে উলঙ্গ অবস্থায় বিছানায় বসে থাকতে দেখেন। এ সময় তার আচরণ ও শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে বিষয়টি জানতে চাইলে সালমা অভিযোগ করেন, আগের দিন ৩ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তার চাচা মো. মকবুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত মকবুলের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে তিনি অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং গালিগালাজসহ অশালীন আচরণ করেন। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন তথ্য জানেন এবং প্রয়োজনে তারা সাক্ষ্য দিতে পারবেন। ফলে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একজন অসহায় ও প্রতিবন্ধী নারী তার নিকট আত্মীয়ের কাছেই এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—এ অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে অভিযোগের ভিত্তিতে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
তানোর থানা পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ও অসহায় নারীরা সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd