জাহিদ হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা চকবাজার থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন এরফান বর্তমানে দলীয় অবহেলার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সৈরাচারী শাসনামলে দলের হাল ধরে রাখা এই ছাত্রনেতা শেষ পর্যন্ত নিজ দল থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৭ বছরে ছাত্রদলের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচি, আন্দোলন ও সংগ্রামে সম্মুখসারিতে ছিলেন আমির হোসেন এরফান।
জানপ্রাণ দিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন তিনি। তবে দীর্ঘ এই ত্যাগের পরও দলীয়ভাবে তার অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তার।
এরফানের বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলা ছিল। এর মধ্যে তাকে প্রায় ২ বছরের সাজার কথা শোনানো হয়। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির সময় তাকে নিজ বাসা থেকে ধরে গু/লি করার সময় ছাদের ওপর থেকে সে নিজের জান বাচানোর জন্য নিচের দিকে লাফ দেয়, এতে তার দুই পা মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়। এরপর তাকে ধরে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় চার মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকতে হয় আমির হোসেন এরফানকে। মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস জেলখানায় স্বল্প পরিসরে তার তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এত কঠিন পরিস্থিতি পার করার পরও দলীয়ভাবে কোনো সহানুভূতি বা মূল্যায়ন না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এই ছাত্রনেতা। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনের নির্বাচনীয় ক্যাম্পেইনেও তিনি নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
আমির হোসেন এরফান জানান, দলের জন্য নিজের জীবন, সময় ও ভবিষ্যৎ উৎসর্গ করেও যখন ন্যূনতম সম্মান ও স্বীকৃতি পাওয়া যায় না, তখন আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো মানসিক শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। এসব কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন আন্দোলনে পরীক্ষিত ও নির্যাতিত কর্মীদের অবহেলা শুধু ব্যক্তি নয়, সংগঠনের জন্যও ক্ষতিকর বার্তা বহন করে। আমির হোসেন এরফানের পদত্যাগ সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।