হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিব নদী দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত দখল, মাটিভরাট ও লাগামহীন দূষণের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়, আর বর্ষায় সামান্য পানি থাকলেও আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য আর চোখে পড়ে না।
এক সময় এই শিব নদী ছিল তানোর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-সংসার। কিন্তু বর্তমানে নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে পড়ায় মৎস্যজীবী পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিব নদীর ওপর নির্ভর করে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন শতাধিক পরিবার। বর্তমানে নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক জেলে পরিবার পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ শহরে দিনমজুরের কাজ খুঁজছেন।
নদীপাড়ের এক মৎস্যজীবী আশরাফুল ও আলম আক্ষেপ করে বলেন,“আগে শিব নদী থেকেই আমরা সংসারের সব খরচ চালাতাম। প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন নদীতে পানি নেই, মাছও নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।অবৈধ দখল ও মাটিভরাটে হারাচ্ছে নদীর প্রশস্ততা।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, নদীর দুই পাড়ে অবৈধ দখল ও মাটিভরাটের কারণে শিব নদী তার স্বাভাবিক প্রস্থ হারাচ্ছে। অনেক জায়গায় নদীর অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যা নদীর প্রবাহে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে।i
একই সঙ্গে বর্জ্য ও গৃহস্থালির আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলায় পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। এতে শুধু মাছ নয়, নদীনির্ভর অন্যান্য প্রাণীও ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিব নদী রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীর সীমানা চিহ্নিতকরণ এবং দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শিব নদী ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ মৃত নদীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যৌথ উদ্যোগের বিকল্প নেই
পরিবেশবিদ ও স্থানীয় নাগরিকরা মনে করেন, শিব নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। নদীটি শুধু একটি জলধারা নয়, এটি এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নদী রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা হবে এক অপূরণীয় ক্ষতি—এমনটাই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।