মোঃ শাহজাহান বাশার,
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ ও বকেয়া আদায়ে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। গত বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, আশুলিয়া, সাভার ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে পৃথক পৃথক অভিযানে হাজারো অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সঙ্গে কয়েকটি শিল্প-কারখানা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও বাসাবাড়ির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাইপলাইন জব্দ এবং লাখো টাকার জরিমানা আদায় করা হয়।
জনাব মিল্টন রায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ)-এর নেতৃত্বে জয়দেবপুর ও টঙ্গী এলাকার ভাদার্ত্তী ও কালীগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ২০০০ বাড়ির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কালীগঞ্জ ডিআরএস থেকে রূপগঞ্জের বেলদী মোড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অবৈধ বিতরণ লাইন কেটে ক্যাপ করা হয়।

এছাড়া দক্ষিণ সালনা ও বটতলা রোড এলাকায় বিশেষ অভিযানে ৫টি রাইজার থেকে ৪৪টি অবৈধ চুলা বিচ্ছিন্ন করা হয়। ময়মনসিংহ ও শেরপুরে আঞ্চলিক রাজস্ব শাখার বিশেষ অভিযানে বকেয়া ও অতিরিক্ত সংযোগের দায়ে কয়েকটি বাসাবাড়ির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মনিজা খাতুন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বন্দরের মদনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২.৩ কিলোমিটার অবৈধ বিতরণ লাইন অপসারণ, ৩টি রেস্টুরেন্টের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ৫০০টি অবৈধ ডাবল বার্ণার চুলা জব্দ করা হয়। এ সময় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সহকারী কমিশনার মো. নাহিদ নিয়াজ শিশিরের নেতৃত্বে অভিযানে মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের কয়েল কারখানার অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৩টি ডাবল বার্ণার সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই অভিযানে বিএসটিআই আইনে কামাল কয়েল ফ্যাক্টরিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রূপগঞ্জের সোনাব, ভুলতা ও আশপাশ এলাকায় নিয়মিত অভিযানের সময় স্থানীয় এক গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর একটি অংশ তিতাসের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়, শারীরিকভাবে হেনস্তা করে এবং জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনঃস্থাপন করায়। ওয়েল্ডিং টিমের যন্ত্রপাতিও লুট করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে আবাসিক সংযোগের নামে শিল্প কারখানায় গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় একাধিক মিটারবিহীন সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বন্ধ করা হয়। এছাড়া আশুলিয়ার কাঠালবাগান এলাকায় ৭৫টি বাড়ি ও হোটেলের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার সমপরিমাণ মাসিক গ্যাস চুরি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
সিমন সরকারের নেতৃত্বে মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ–১ আওতাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ, ডেমরা ও মাতুয়াইল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এতে এস কে ওয়াশিং, A.S. ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও মমতাজ ওয়াশিং নামের তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পাইপ, যন্ত্রাংশ ও মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
তিতাস গ্যাস জানায়, অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ ও বকেয়া আদায় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে।