মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের তালিকাভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় বিধবা নারীর কানের সোনার দুল হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে এক প্রতারক চক্র। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ভোলার দৌলতখান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাজি বাড়িতে এ দুর্ধর্ষ প্রতারণার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী নারীর নাম মরিয়ম বেগম (৫৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত নাছির সাজির স্ত্রী। সরকারি সহায়তার আশায় শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই বৃদ্ধা।
স্থানীয় সূত্রে ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবক সাজি বাড়িতে আসেন। নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি পরিচয়ে তারা মরিয়ম বেগমকে জানান, তাঁর নামে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বরাদ্দ করা হবে, যার মাধ্যমে তিনি নিয়মিত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পাবেন।
কার্ডের জন্য পাসপোর্ট সাইজের ছবি তুলতে হবে জানিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাঁকে ঘরের বাইরে এনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড় করায়। এরপর ছবি তোলার অজুহাতে বলা হয় কানের সোনার দুল পরা থাকলে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে সমস্যা হতে পারে এবং সরকারি নিয়মে অলংকারসহ ছবি গ্রহণ করা হয় না।
সরল বিশ্বাসে মরিয়ম বেগম তাঁর কান থেকে সোনার দুলটি খুলে হাতে নেন। তখন প্রতারকদের একজন দুলটির ওজন ও মান পরীক্ষার ছলে তা দেখতে চায়। দুলটি হাতে পাওয়া মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে তারা মোটরসাইকেলে উঠে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পুরো বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই প্রতারক চক্রটি চম্পট দেয়।তারা বলল ফ্যামিলি কার্ড পাইয়া দিমু, ছবি তোলা লাগব। গহনা পইরা ছবি তোলা যায় না কইয়া আমার দুলটা হাতে নিল। এরপর চোখে পলক ফেলার আগেই মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়া টান দিল। আমি তো হুনছিলাম সরকার গরিবদের কার্ড দেয়, সেই কার্ডের লোভে পইড়া আমার জীবনের শেষ সম্বলটুকুও হারালাম।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাজি বাড়িসহ পুরো ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ভাতা ও সহায়তা কার্ড দেওয়ার নামে এলাকায় কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় কি না তা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইদানীং বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি অনুদান ও কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কার্ড ফি বা অন্যান্য অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াররিয়া একাধিক খবর শোনা যাচ্ছে। এই চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে আরও অনেক অসহায় পরিবার প্রতারণার শিকার হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম জানান ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হচ্ছি। ভুক্তভোগী পরিবার বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে যেকোনো সরকারি কার্ড বা সুবিধার জন্য অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কথায় বিভ্রান্ত না হতে এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা মূল্যবান জিনিসপত্র কারো হাতে না তুলে দেওয়ার জন্য এলাকার জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬