ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধায় বিয়ের আগের দিন তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহারিয়া সৌমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় শহরের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা শহরের দেশী ভোজ হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা। লিখিত বক্তব্যে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শারমিন সুলতানার দাবি, সৌমিক শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। বিয়ের আগের দিন ১৫ অক্টোবর সকালে তিনি পায়ে হেঁটে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে শহরের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। এ সময় তাঁকে কয়েকটি ইনজেকশনও দেওয়া হয় বলে জানান করেন তাঁর বোন।
পরে বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও সৌমিকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে, একপর্যায়ে তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হওয়াসহ চিকিৎসায় অবহেলার কারণে সৌমিকের মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সৌমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেওয়া চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে অসুস্থ অবস্থায় সৌমিককে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন শুক্রবার তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বাড়িতে চলছিল গায়েহলুদের আয়োজন, সাজানো হয়েছিল বিয়ের বাড়ি। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ পরিণত হয় শোকে।