আহমেদ আকবর
সিলেট
এক সময় যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাত, আজ তারা বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি ও দামি গাড়ির মালিক।
আলাদিনের চেরাগের মতো রাতারাতি এই ভাগ্য পরিবর্তনের পেছনে কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, জড়িয়ে আছে সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও শোষক শ্রেণির ব্যবসা—’সুদ ও হুন্ডি’।
দুঃখজনকভাবে, এই অবৈধ ও রক্তচোষা টাকার জোরেই তারা আজ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি বনে গেছেন। দিনের শেষে সুদের টাকা গুনে, আর লোকদেখানো তাসবিহ হাতে নিয়ে তারা সাজছেন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’।
সমাজও আজ এই অপশক্তির কাছে নতজানু। অথচ পবিত্র কুরআনে এই সুদখোরদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ তায়ালা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।সুদের ভয়াবহতা নিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহর বাণীইসলামে সুদকে সম্পূর্ণ হারাম (নিষিদ্ধ) করা হয়েছে এবং এটিকে অন্যতম কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে সুদের বিষয়ে আল্লাহর প্রধান হুঁশিয়ারিগুলো নিচে তুলে ধরা
হলো:
আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: সূরা আল-বাকারার ২৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন, “যদি তোমরা সুদ বর্জন না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।”
ইসলামের ইতিহাসে আর কোনো পাপের জন্য এত কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়নি।শয়তানের স্পর্শে উন্মাদ হওয়া: সূরা আল-বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “যারা সুদ খায়, তারা কেয়ামতের দিন দাঁড়াবে সেই ব্যক্তির মতো, যাকে শয়তান স্পর্শ করে উন্মাদ বানিয়ে দিয়েছে।”ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম ঘোষণা: একই আয়াতে (২৭৫) আল্লাহ বলেন, “অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।
সুদের টাকা ধ্বংস হওয়া: সূরা আল-বাকারার ২৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং সদকাকে (দান) বর্ধিত করেন।” অর্থাৎ সুদ মানুষের সম্পদের বরকত কেড়ে নেয়।সমাজের দ্বিমুখী নীতি ও তথাকথিত ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’বাস্তব চিত্র অত্যন্ত নির্মম। সুদের টাকা দিয়ে সমাজের উচ্চাসনে বসে এই ব্যক্তিরা উচ্চকণ্ঠে কথা বলেন। মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সুদের কালো টাকা অনুদান দিয়ে তারা নিজেদের পাপ ঢাকার চেষ্টা করেন।
বাহ্যিক ধার্মিকতার ভণ্ডামি (হাতে তাসবিহ আর মনে সুদের হিসাব) করে তারা সমাজকে বিভ্রান্ত করছেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে, হারাম উপার্জনের দান আল্লাহর দরবারে কখনোই কবুল হয় না।মাদক, হুন্ডি ও সুদের সিন্ডিকেটকেবল মাদক ব্যবসাই সমাজ ধ্বংস করছে না; সুদ ও হুন্ডির মতো জঘন্য অপরাধগুলো দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। দরিদ্র মানুষকে ঋণের জালে আটকে তাদের ভিটেমাটি কেড়ে নিয়ে যারা আজ ‘টাকার পাহাড়’ বানিয়েছেন, তারা মূলত সমাজের রক্তচোষা কীট।
এই অবৈধ অর্থ উপার্জনকে সমাজ ও রাষ্ট্রের কঠোর হস্তে দমন করা এখন সময়ের দাবি।