• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পুলিশের ভিতরে পুলিশের অপতৎপরতা,পুলিশে ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ ! ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ধামসোনা ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইসরাফিলের গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা ঢাকা জেলায় ডিবির পৃথক অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পৌরসভার আর্থিক সংকট কাটাতে আইন অনুযায়ী কর আদায়ের বক্তব্যকে অপপ্রচার বলে দাবি তানোরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জিআর পরোয়ানাভুক্ত দুই কুখ্যাত অপরাধী গ্রেফতার দক্ষিণ সুরমায় কিশোর গ্যাং প্রধান অন্তরের ত্রাস: অধরা ‘রাঘববোয়াল’, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে যা বলা হলো বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দৌলতখানে জামায়াতের গণমিছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

পুলিশের ভিতরে পুলিশের অপতৎপরতা,পুলিশে ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ !

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার পটপরিবর্তনের সময়কালে বাংলাদেশ পুলিশও একটি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সে সময় বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের তৎকালীন ফরমান–মাজহার কমিটির বিরুদ্ধে সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে পুলিশের কর্মবিরতির ঘোষণা এবং বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে পুলিশে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।যার খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমান কমিটির পুলিশ সদস্যদের।

সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ উঠেছে পুলিশ এসোসিয়েশন প‍্যাড ব‍্যবহার করে নিজেদের পুলিশ এসোসিয়েশন এ‍্যাডহক কমিটি সদস‍্য দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) একেএম আলমগীর জাহানসহ গুটিকয়েক পুলিশ কর্মকর্তারা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ।

বর্তমানে একেএম আলমগীর জাহান ডিবি মতিঝিল বিভাগে কর্মরত আছে তাদের মধ‍্য আরেকজন হলো মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৩২ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে প্রত‍্যাহার হওয়া ভাটারা থানার সাবেক ওসি ইমাউল হক সহ আরো কয়েকজন।

অনুসন্ধানে জানা যায়,একেএম আলমগীর জাহান গত ৫ মে ২০২৬ তারিখ থেকে ডিএমপি, ঢাকার ডিবি মতিঝিল বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। তার নিজ জেলা বগুড়া। তিনি ছাত্রজীবনে জাসদের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তার পিতা মোঃ মতিয়ার রহমান ১৯৯৮ সালে সারিয়াকন্দি থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে কোনো ধরণের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নন বলে জানা যায়।

তিনি বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন এডহক কমিটি/২০২৫ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি। বর্তমানে সভাপতি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোজাম্মেল হক মামুন পিএআরএল থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৮ সালে পাবনা জেলার ডিআইও-১ ছিলেন। ৫ আগস্ট/২০২৪ তারিখের আগে তিনি জয়পুরহাট সদর থানায় ২৪ অক্টোবর-২০২০ সাল হতে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং ওসির দায়িত্ব পালন করেন। এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং অফিসার ইনচার্জ ছিলেন বলে জানা যায়। ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখের পর তিনি ডিএমপির পল্লবী থানায় ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২ মে ২০২৬ পযন্ত ওসির দায়িত্ব পালন করেন ও ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ৬ ডিসেম্বর ২০২৬ সাল পযন্ত ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৬ এর জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছেন মর্মে গুঞ্জন রয়েছে।

এছাড়াও তিনি পূর্ববর্তী কর্মস্থল চার্লিভাঙ্গা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, পাবনা জেলা ও জয়পুরহাট জেলায় কর্মকালে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করতেন, তবে চামটাঘাট নৌ-ফাঁড়িতে কর্মকালীন চরমমাত্রায় অবৈধ অর্থ গ্রহণ করতেন। পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ ইমাউল হক, পিপিএম (বিপি-৭৮০৬১১৮৫১২), এসএমপি, সিলেট:

অন‍্য আরেক সদস‍্য পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ ইমাউল হক, পিপিএম প্রশাসনিক কারণে বদলিসূত্রে ০২/০৮/২০২৬ তারিখে এসএমপি, সিলেটে যোগদান করেছেন। তার নিজ জেলা পাবনা। তার ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যগণ বিএনপি সমর্থক বলে জানা যায়।

পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ ইমাউল হক, পিপিএম বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন এডহক কমিটি/২০২৫ এর সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৫ আগস্ট/২০২৪ তারিখের এর আগে তিনি মাগুরা জেলার ডিআইও-১ এবং যশোর জেলার ডিবির অফিসার ইনচার্জ ছিলেন। তিনি যশোর জেলার ডিবির (০৫/০৮/২০১৬-১৮/১০/২০১৮) অফিসার ইনচার্জ থাকাকালীন বিএনপি- জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।

তিনি তৎকালীন ডিআইজি মনিরুজ্জামানের আস্থাভাজন ছিলেন বলে জানা যায়। আওয়ামীলীগ শাসন আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচিত পিয়ন জাহাঙ্গীর এর সুপারিশে তিনি নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার (২৯/১০/২০১৮-০৮/০৩/২০১৯) অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়।

৫ আগস্ট/২০২৪ তারিখের পরে তিনি ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানা (১৯/০৫/২০২৫-০৬/১২/২০২৫) এবং ভাটারা থানার (০৬/১২/২০২৫-১৮/০৩/২০২৬) অফিসার ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ায় ৩২,০০,০০০ টাকার লেনদেন করার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা যায়। এছাড়াও তিনি পূর্ববর্তী কর্মস্থল ১৪ এপিবিএনের ইন্টিলিজেন্স শাখার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকাকালে এবং যশোর জেলা ডিবিতে কর্মরত থাকাকালে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করতেন বলে জানা যায়।

পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ হাসানুজ্জামান (বিপি-৭৭০৬১০৬১৮৭), মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ হাসানুজ্জামান ১৫/০৪/২০২৬ তারিখ থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলায় কর্মরত রয়েছেন। তার নিজ জেলা সাতক্ষীরা। তার ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যগণের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন এডহক কমিটি/২০২৫ এর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গাজীপুর জেলায় কর্মরত থাকাকালীন তৎকালীন পুলিশ সুপার জনাব হারুন অর রশিদ অর্থাৎ ডিআইজি জনাব হারুন অর রশিদ এর ক্যাশিয়ার ছিলেন। ৫ আগস্ট/২০২৪ তারিখের আগে তিনি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানা (৩১/১২/২০২৩-১০/০৯/২০২৪) এবং মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার (১৮/০১/২০২১-২২/১০/২০২৩) অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (বিপি-৭০৯৫১২১৭১৪), ১৩ এপিবিএন:

পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ০২/০৮/২০২৬ তারিখ থেকে ১৩ এপিবিএন-এ কর্মরত রয়েছেন। তার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রদল সমর্থন করতেন। তার ভাই পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিপিএম (বিপি-৭২৯৯০০৯০২৭, বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিপিএম ইতোপূর্বে ডিএমপির কামরাঙ্গীরচর থানা (০৮/১২/২০২৩-২৩/০৭/২০২৪), কলাবাগান থানার (০৫/০৭/২০২২-০৮/১২/২০২৩) ও রামপুরা থানা (১০/০৬/২০২১-০৫/০৭/২০২২) অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কলাবাগান থানায় কর্মরত থাকাকালে বাংলা মটর এলাকার জুয়ার বোর্ড থেকে ১২,০০,০০০ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তার কলাবাগান থানা থেকে অন্যত্র বদলি হয় বলে জানা যায়।

পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন এডহক কমিটি/২০২৫ এর ক্রীড়া সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাদক সেবন ও নারী কেলেংকারির জন্য তিনি বিএনপি সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।

পরবর্তীতে তার স্ত্রীর আপন ভাই আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ শাসন আমলে পুনরায় চাকরি ফেরত পান বলে জানা যায়। ৫ আগস্ট/২০২৪ তারিখের পর তিনি সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে তার সখ্যতা আছে বলে তিনি পরিচয় দিতেন এবং বদলি করে দেয়ার কথা বলে পুলিশ সদস্যদের নিকট থেকে মোটা অংকের অবৈধ অর্থ গ্রহণ করতেন। তার অবৈধ অর্থ গ্রহণের বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে সিআইডি থেকে এপিবিএন, উখিয়া বদলি করা হয় বলে জানা যায়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এক সূত্রে জানা যায়,ওসি আলমগীর জাহান কে বরিশাল রেঞ্জ,হাসানুজ্জামান কে সিলেট রেঞ্জ ও মোহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম কে রংপুর রেঞ্জের বদলি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ওসি আলমগীর জাহানের নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd