মোঃ মাসুম বিল্লাহ, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি:
জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের কথা জাতি কখনো ভুলবে না বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এমপি। একই সঙ্গে তিনি জুলাই বিপ্লবের মূল প্রেরণা ও মহানায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে। এখন আন্দোলনের সুফল দেখে অনেক গুপ্ত দল নানা মুখরোচক কথা বলছে।
বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পরিবার এবং গুরুতর আহত যোদ্ধাদের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে রাজধানীর মিরপুরে ১৫টি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষে এসব ভবনে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে পিরোজপুর ও ভাণ্ডারিয়ার মানুষের অবদান অপরিসীম। তিনি সরকারের নেওয়া উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ঘোষিত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসিবুল হাসান এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল হালদার এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ওসি জগলুল হাসান, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি মোঃ জুয়েল মৃধা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শামীম হাওলাদার, পৌর যুবদল যুগ্ম আহবায়ক রণি মোল্লা প্রমূখ।
অনুষ্ঠান শেষে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধাদের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক চেক তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ এমদাদুল হকের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রী। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে তিনি মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি শহীদ এমদাদুল হকের কবরে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।