হামিদুর রহমান রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের তালুকাকান্দর বাম্পপুকুরিয়া গ্রামে সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত পানির পাম্পের বৈদ্যুতিক তার কেটে দেওয়ার পাশাপাশি বোরিং নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে এক নারীকে ধাক্কা, গালিগালাজ, মারধর ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বোরিংয়ের ভেতরে ইট, বালি, মাটি, কাদা ও লাঠি ফেলে পানির সংযোগ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. মৌসুমী খাতুন (২৬) তানোর থানায় সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কলমা ইউনিয়নের বাম্পপুকুরিয়া এলাকায় স্থানীয় প্রায় ১২টি পরিবারের সুপেয় পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে একটি পানির মোটর/পাম্প স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই পাম্পের পানি ব্যবহার করে আসছিলেন এলাকাবাসী। পরবর্তীতে অধিকাংশ পরিবার নিজ উদ্যোগে বিকল্প পানির মোটর স্থাপন করলেও মৌসুমী খাতুনসহ তিনটি পরিবার ওই সরকারি পাম্পের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি সরকারি পানির মোটরের বৈদ্যুতিক তার ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে মৌসুমী খাতুন প্রতিবাদ ও বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেওয়া, গালিগালাজ ও মারধরসহ গুরুতরভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির পানির বোরিংয়ের ভেতরে ইট, বালি, মাটি, কাদা ও লাঠি ফেলে বোরিংটি নষ্ট করে দেওয়া হয়। ফলে ওই পরিবারগুলোর পানি ব্যবহারের ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থে স্থাপিত পানির পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করে আসছিল। পাম্পের তার কেটে দেওয়া এবং বোরিং নষ্ট করার কারণে বর্তমানে মৌসুমী খাতুনসহ তিনটি পরিবার সুপেয় পানির সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি পানির ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার দাবি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ করার পরও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি সম্পদ নষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপদ পানির ব্যবস্থা দ্রুত পুনর্বহাল করা হোক।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও সরকারি পানির মোটরের তার কেটে বোরিং নষ্টের চেষ্টা এবং তিনটি পরিবারকে মারধরের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পানি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। সরকারি অর্থে স্থাপিত একটি পানির পাম্প কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে অচল করে দেওয়া হলে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকার জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পানির ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।