হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সারারাতের ভারী বৃষ্টিতে মাটির তৈরি দোতলা বাড়ির দেয়াল ধসে চাপা পড়ে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের বনকেশর চকপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টির কারণে মাটির তৈরি বাড়িটির দেয়াল দুর্বল হয়ে পড়ে। আনুমানিক সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ বাড়িটির একটি অংশ ধসে পড়লে ঘরের ভেতরে থাকা ওই গৃহবধূ মাটির নিচে চাপা পড়েন। দেয়াল ধসে পড়ার শব্দ ও পরিবারের লোকজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে মাটি ও ধসে পড়া দেয়ালের অংশ সরিয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর গৃহবধূকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বনকেশর চকপাড়া গ্রামের পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে মাটির তৈরি পুরোনো ও দুর্বল বাড়িগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ধরনের বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে মাটির বাড়ির দেয়াল অতিরিক্ত পানি শোষণ করায় অনেক সময় তা নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য চাপ বা অতিরিক্ত বৃষ্টিতেই দেয়াল ধসে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বনকেশর চকপাড়া গ্রামের এই দুর্ঘটনা মাটির তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন কি না, এবং নিহত গৃহবধূর মরদেহের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ, নিহতের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ভারী বৃষ্টির সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাটির তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর চিহ্নিত করে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।