আহমেদ আকবর
সিলেট
সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও শায়েস্তাগঞ্জ রুটের ট্রেনের টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে এখন সোনার হরিণ। কাউন্টারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও মিলছে না টিকিট। অথচ নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী কালোবাজারি চক্র। এই চক্রের অন্যতম হোতা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার স্থানীয় বাসিন্দা নাছির মিয়া। সে ও তার সিন্ডিকেট ট্রেনের মূল টিকিট ‘ডাবিং’ (ডুপ্লিকেট বা জাল) করে একাধিক ব্যক্তির কাছে চড়া দামে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-ঢাকা, শায়েস্তাগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল রুটের টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র। ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা এই টিকিট জালিয়াতি ও কালোবাজারি চক্রের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, নাছির মিয়া একা নয়, তার পেছনে রয়েছে একটি বিশাল টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট। তারা তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে বা কাউন্টারের কিছু অসাধু চক্রের সহায়তায় টিকিট সংগ্রহ করে। এরপর সেই টিকিটের কপি ‘ডাবিং’ বা ডুপ্লিকেট তৈরি করে একই টিকিট একাধিক সাধারণ যাত্রীর কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে। অনেক সময় সরল বিশ্বাসে টিকিট কিনে ট্রেনে উঠে যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন, যখন দেখেন একই সিটের একাধিক দাবিদার রয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কাউন্টারে গেলে বলা হয় টিকিট শেষ। অথচ বাইরে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা দিলে নাছির সিন্ডিকেটের কাছে টিকিট পাওয়া যায়। এই ডাবিং টিকিটের কারণে ডিজিটাল রেলওয়ে ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।”রেলওয়ে আইনের নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেনের টিকিট হস্তান্তর, জালিয়াতি বা কালোবাজারি করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
সচেতন মহল মনে করছেন, কুলাউড়ার নাছির মিয়ার এই সিন্ডিকেটকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে। এই চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে রেলওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জনসাধারণ।