• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক সিলেটে যুবক নূর ইসলাম হ/ত্যা: ই/য়া/বা কেনাবেচার ৫০০ টাকার জেরে খু/ন ভান্ডারিয়ায় পৌনে ১ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ ২৪ অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে শোকজ পিরোজপুরে দুই শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা নাগেশ্বরীতে জরাজীর্ণ ছাপরা ঘরে মানবেতর জীবন: ৯৯ বছরের মা ও ৬২ বছরের মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান তানোরে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটায় থানায় লিখিত অভিযোগ এসপির কার্যালয়ের পাশেই জুয়ার আসর, গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ সদস্য তানোরে ৭০ পিস ই/য়া/বা সহ যুবক আ/ট/ক নাগেশ্বরীতে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটিতে আলহাজ হারিসুল বারী রনি

আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক

Reporter Name / ২০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে কারণেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের এই পর্যায়ে তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে গেলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ কারণে তাঁর বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে ভিলা, জমি ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ গত ১৩ সেপ্টেম্বর জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পাওয়া নতুন অভিযোগগুলো আগে থেকে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানা যায়।

সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডারেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও পেয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং তাঁর এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। তাঁর পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া নতুন অভিযোগগুলোও একই অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানায় সংস্থাটি।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। গত ৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পরে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, কোনো তদন্তের ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের বক্তব্যের কারণে তাঁকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়েছে। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানে উত্থাপিত অভিযোগের কোনোটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়, অনুসন্ধানাধীন অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd