হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি:
জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন মোহনপুর মেলান্দি গ্রামের এক নিরহংকারী মানুষ—সেকেন্দার আলী। গত ১৬ বছর ধরে তিনি কাঁধে ঝাঁকা ডালি তুলে হেঁটে হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে গিয়ে তিনি মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেন—এই সামান্য আয়ের ওপর ভর করেই টিকিয়ে রেখেছেন তার সংসার।
ভোরের সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় তার দিনের যাত্রা। কাঁধে ঝাঁকা ডালি তুলে নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য ছাড়াই তিনি পা বাড়ান গ্রামের মেঠোপথে। কখনো কাদা, কখনো ধুলোমাখা পথ পাড়ি দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরে বেড়ান শুধু জীবিকার তাগিদে। তীব্র রোদ, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শীত—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।
এই কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলেই সেকেন্দার আলী তার চার ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের বিয়ে-শাদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এক অর্থে, নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েই তিনি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েছেন।
স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার জীবনের গল্প আজ অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণা। যেখানে অনেকেই স্বল্প আয়ে হতাশ হয়ে পড়েন, সেখানে সেকেন্দার আলী প্রমাণ করেছেন—পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।
তবে জীবনের এই দীর্ঘ সংগ্রামের পরও তার কোনো বিলাসবহুল চাওয়া-পাওয়া নেই। নেই বড় কোনো স্বপ্ন। তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—শেষ জীবনে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করা। পরিবারের সান্নিধ্যই তার কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ।
সেকেন্দার আলীর মতো মানুষেরা সমাজের নীরব যোদ্ধা। তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও, তাদের ঘাম আর ত্যাগেই গড়ে ওঠে সমাজের ভিত। তার জীবনের গল্প শুধু একজন মানুষের নয়, বরং হাজারো সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত সেকেন্দার আলীর মতো সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কারণ, সামান্য সহায়তাই হয়তো তার জীবনের শেষ অধ্যায়কে আরও সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।