• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সুন্দর প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপে লজ্জার রেকর্ড গড়লেন মেসি ষড়যন্ত্র মূলক অপপ্রচারের শিকার ঝালকাঠির নবাগত পুলিশ সুপার বদরুল আলম তানোরে তসলিমা ইলেক্ট্রনিক্স ও ওয়ালটন শোরুমে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুরগিটোলায় জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৩ তানোরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত রাজধানীতে শাহাদাত-এ কারবালা মাহফিল মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশের দুই সাংবাদিক

সিলেটের মাটিকে কলঙ্কিত করতে এই ওসমানী মেডিকেলই যথেষ্ট!

Reporter Name / ৩৭৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫

কামরুল হাসান জুলহাস ::

সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—যেখানে রোগী নয়, টাকাই যেন সবচেয়ে বড় কথা!

জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে ঢুকতেই প্রথমেই টিকিট নিতে হয়। টিকিটের দাম ১০ টাকা। কিন্তু যদি রোগীকে ভর্তি করতে হয়, বোর্ডে লেখা ১৫ টাকা হলেও বাস্তবে আদায় করা হয় ২০ টাকা। এখানেই শেষ নয়—রোগীকে হুইলচেয়ারে ওয়ার্ডে নিতে দিতে হয় ১০০ টাকা, আর অবস্থা গুরুতর হলে ট্রলিতে নেওয়ার জন্য দিতে হয় ২০০ টাকা।

ওয়ার্ডে পৌঁছানোর পরও নতুন নিয়ম—রোগীর সাথে একজনের বেশি প্রবেশ করলে প্রতি জনে ২০ টাকা দিতে হয়। বেডের জন্য দাবি করা হয় ৫০০ টাকা। কিন্তু অনেক সময় “বেড নেই” বলে টাকা নিয়েও মাটিতে শোয়ানো হয় রোগীকে। কেউ একটু ভালো বেড চাইলেই বাড়তি টাকা—যেমন একজন রোগী ১৯৫০ টাকা দিয়ে পেয়েছেন তথাকথিত PN বেড!

রোগী ভর্তি শেষ হলে শুরু হয় নতুন অধ্যায়—ডাক্তারের পালা। ডাক্তার এসে প্রাথমিকভাবে অন্তত চারটি পরীক্ষা দেন, সাথে এক বস্তা স্যালাইন ও ঔষধের প্রেসক্রিপশন। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চলতে থাকে আরও ঔষধ ও স্যালাইন। আর কেউ প্রশ্ন করলে পুলিশের ভয় দেখানো হয়—যেমনটা এক ভুক্তভোগীর সাথে ঘটেছে।

রিপোর্ট আসার পর নতুন ডাক্তার এসে নতুন পরীক্ষা দেন। প্রতিদিন ডাক্তার বদল হয়, আর প্রতিদিন নতুন নতুন পরীক্ষা ও ঔষধ যুক্ত হয়। পরীক্ষায় রোগীকে নিতে হুইলচেয়ারের জন্য ১০০ টাকা, ট্রলির জন্য ২০০ টাকা দিতে হয় ওয়ার্ডবয়কে। রোগীর খোঁজ নিতে আসা স্বজনদেরও প্রতিদিন দারোয়ানকে “খুশি” করতে হয়।

সবশেষে যখন অপারেশনের পালা আসে—ডাক্তারের হাতে ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকার ঔষধ কিনে দিতে হয়, যা ফেরতযোগ্য নয়। যদি অপারেশনে রোগী মারা যায়—টাকা, আশা, মানুষ—সব শেষ! আর যদি সফল হয়, তখনও থিয়েটারের বয়, দারোয়ান, নার্স—সবার মুখে হাসি ফোটাতে হয় টাকা দিয়ে।

রোগী সুস্থ হলে রিলিজ নিতেও শুরু হয় নতুন খেলা—নার্স, দারোয়ান, ওয়ার্ডবয়—সবার ভাগ আলাদা। শেষমেশ সব “খুশি” করতে করতে রোগীর স্বজনরা প্রায় লেংটা হয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে।

বাহিরে এসে চোখে পড়ে বড় ব্যানার—
“আমরা সেবা দিই, মানবতার জন্য কাজ করি।”
কিন্তু বাস্তবতা যেন এর সম্পূর্ণ উল্টো ছবি!

ভুক্তভোগীদের দাবি, “আমরা জানি, এতে করে ওরা একদিনে ঠিক হবে না। কিন্তু এই অন্যায়ের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে হয়তো ১০০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকায় নামবে—এটাও তো একধরনের জয়!”

রক্তে যখন ভেজাল ঢুকে যায়, তখন সেটি সহজে নিরাময় হয় না। তবু ন্যায়ের পক্ষে এই প্রতিবাদ চলুক—কারণ ওসমানী মেডিকেল এখন সিলেটের মাটির কলঙ্কে পরিণত হচ্ছে!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd