• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সিলেট খাদিম পাড়া বহর কলোনীতে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা বুড়িচংয়ে কথিত কিশোর গ্যাং ‘বিকেজি’র লিডার ছাব্বির আটক বিশ্বব্যাপী বিভ্রাটে সাময়িকভাবে অচল ফেসবুক, ভোগান্তিতে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা দক্ষিণ সুরমায় মাদক ও জুয়ার আস্তানায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত তানোরে চা বিক্রেতার মেয়ের মেডিকেলের পড়া লিখা কি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে ? মধ্যনগরে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী ব্রাহ্মণপাড়ায় একাধিক মামলার আসামি শাহীন গ্রেপ্তার সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: মাদক ও অস্ত্রসহ আটক শতাধিক সরকারি নির্দেশনা মেনে সকাল ১১টার আগে দোকান খুলছেন না নূরজাহান মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মদিনার কাফেলা বাংলাদেশ-এর বাকশিমুল ইউনিয়ন কমিটি গঠন সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, সম্পাদক আদিল উদ্দিন ইউসুফ

তানোরে চা বিক্রেতার মেয়ের মেডিকেলের পড়া লিখা কি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে ?

Reporter Name / ৪৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

হামিদুর রহমান তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :-

রাজশাহীর তানোরে চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদার ডাক্তারী পড়া কি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে? মাহমুদার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিনী। মাসুদ রানার দুই মেয়ে । এর মধ্যে মাহমুদা বড়, ছোট মেয়ে মিম খাতুন ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়াশুনা করছেন । মাহমুদা খাতুন ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ -৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সুযোগ পেয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছেন মাহমুদা খাতুন। কিন্তু টাকার অভাবে লিখা পড়া বন্ধ হতে চলেছে মাহমুদার।

বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশুনাই আগ্রহী। আমরা পড়া লেখা জানিনা। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াইছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি সে সময়। সে গরীবের মেয়ে হলেও তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন। মাহমুদার বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নং ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯। মাসুদ রানা

আরো বলেন, আমি গ্রামের ছোট দোকানের চা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এ আয় দিয়েই আমি গ্রামের কলেজে কোন রকম পড়ালেখা করাতে পেরেছি। মেয়ে এখন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ভর্তি সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে সে টাকাও ধার করে দিতে হয়েছে। ক্লাশ শুরু হয়েছে তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার ও একটি স্কিলেটন(কঙ্কল) যার মুল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে খাতা কলম ও হোস্টেলের খাওয়া খরচ মাহমুদার লাগবে আরো ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্না কন্ঠে বলেন, আমাদের কোন সম্পতি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাবো। গ্রামে মাত্র ২ শতক জমিতে মাটি ও বেড়ার তৈরির বাড়িতে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আল্লাহর কাছে কান্না করেন যেন পড়াশনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরীব-দুখি মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারেন।সাহেরা বিবি বলেন, আমার এ গরীব মেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। তার যে ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে সে জন্য রাষ্টের বর্তমান সরকার ও দেশের বিত্তমানদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ আমার মেয়ের পাশে আপনারা দাড়াবেন।

মাহমুদা খাতুন বলেন, ১ম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়েছে। তাই গত এক সপ্তহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে গিয়ে উঠেছেন। নিজের বই না থাকায় পড়াশুনাই একটু কষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও কলেজ কর্তপক্ষ আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কল) কিনতে বলেছেন। কিন্ত আমার বাবা টাকার অভাবে এখনও কেনে দিতে পারেনি। সব মিলিয়ে টাকার অভাবে কষ্টে পড়েছি,, জানিনা পড়া লিখা শেষ করতে পারবো কি না।

মাহমুদা প্রতিবেশি হেলাল উদ্দিন তিনি মুন্ডুমালা পৌরসভায় কর্মরত কথা হয় তার সাথে তিনি বলেন, মাহমুদা ছোট থেকে বাবা সংসারে শুধু অভাব-অনটনে বেড়ে উঠা তার। অন্যের বই ধার করে অনেক সময় পড়া লেখা করতে হয়েছে। তার বাবা মাসুদ রানা গ্রামে সকালে ও বিকালে চা বিক্রি করেন। কোন কোন সময় মানুষের কামলা খাটেন। গ্রামে অনেক ধনী পরিবার থাকলে মেডেকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি। তিনি বলেন, মাহমুদার পাশে সবাইকে দাড়ানো উচিৎ।

তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসারনাঈমা খান বলেন, মাহমুদার মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টি জানতাম না। এমন পরিবার থেকে মেডিকেলে ভর্তি শুধু তার পরিবারের একাই নয় পুরো তানোর উপজেলার সে গর্ব। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে, শুধু সরকারী সহায়তা নয়, এমন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd