সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান
মো. আবদুল মোতালিব খান।
সিলেট শহরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় চা দোকান, মুদি দোকানে ইয়াবার ব্যবসা ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করেছে। হাত বাড়ালেই ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। খাদিম পাড়া বহর কলোনির নুরু ও সামাদ বাসার সামনে পান দোকানে বসে ওপেন দিন-রাত ইয়াবার ব্যবসা চালাচ্ছে। শহরের যে সকল জায়গায় এই ইয়াবার ব্যবসা চলছে, তাদের একটি সংঘবদ্ধ দল আছে। এদের মধ্যে কেউ নিরাপদ দূরত্বে থেকে পাহারা দেয়, কেউ ইয়াবা বিক্রি করে, কেউ কাস্টমার ম্যানেজ করে, কেউ ডিলারের কাছ থেকে মাল আনে, কেউ মস্তানদের ম্যানেজ করে। এই ভাবেই চলছে ইয়াবার ব্যবসা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন ব্যাপকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ প্রশাসন গ্রেফতার করে থানায় আনার আগেই ইয়াবা ব্যবসায়ী হয়ে যায় কোনো সমাজসেবক বা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী। এ সকল পরিচয়ে থানায় তদবির শুরু হয়ে যায়। সকল জটিল পরিস্থিতি পার করে পুলিশ প্রশাসন যখন মাদক ব্যবসায়ীকে কোর্টে সমর্পণ করেন, তখন দেখা যায় অনেক উকিল মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে মাদক ব্যবসাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আইনি লড়াই চালান। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী এক সময় জামিনে বেরিয়ে এসে আবার নতুন উদ্যমে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে দেয়।
এক মাদক ব্যবসায়ী জামিনে বেরিয়ে আসা মানে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে সাহস যোগায় যে, মাদক নিয়ে ধরা খেলেও কয়েক দিন পরে জামিনে বেরিয়ে আসা যায়। এই ইয়াবার কারণে সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। ইয়াবা নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটে। এই মরণ নেশা ইয়াবা বন্ধ করতে হলে সামাজিকভাবে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং পর্দার আড়ালে বসে কোনো গডফাদাররা মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, এদেরকে খুঁজে আগে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর চোর-ছিনতাইকারী মাদক ব্যবসায়ীর জন্য কারা থানায় ফোন করে তদবির করে, তাদের মুখোশও উন্মোচন করা হোক।