মোঃ আজিজুল গাজী
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের সুষ্ঠু প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, ক্রয় ও বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ে এবং দেশের নদ-নদী ও সাগরে সবচেয়ে বেশি প্রজনন ঘটে। এজন্য এই সময়টিকে বলা হয় ‘ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম’।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“মা ইলিশ সংরক্ষণে এ সময়ে সারাদেশেই ইলিশ আহরণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে জেলা টাস্কফোর্সের সভা আগামী ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
মাছঘাটে সরগরম চিত্র
চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বড়স্টেশন মাছঘাটে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। ছোট ইলিশের দাম কিছুটা কমলেও বড় ইলিশের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, ছোট সাইজের মাছ এখন বেশি ধরা পড়ছে। সমুদ্র থেকেও মাছ উঠতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে বড় আকারের ইলিশ বাজারে আসবে বলে তারা আশাবাদী।
চাঁদপুর দক্ষিণ গোবিন্দিয়া গ্রামের জেলে ছলু খা বলেন,
“আমাদের নদীতে এখন যে ইলিশ ধরা পড়ছে, তার বেশিরভাগই ছোট সাইজের এবং অনেকের পেটে ডিম রয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের অভিমত
চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার জানান,
“এই বছর মোকামে ইলিশের সরবরাহ আগের তুলনায় কম। তবে সামনের দিনগুলোতে আমদানি বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”
ক্ষুদ্র মাছ বিক্রেতা পুরাণবাজার দাসপাড়ার ধীরেন বলেন,
“এক মাস ধরে মাছ কিনে বিক্রি করার মত অবস্থা ছিল না। দাম এত বেশি ছিল যে লোকসান ছাড়া বিক্রি সম্ভব হয়নি। এখন সামান্য মাছ বাজারে উঠেছে, তাই ব্যবসা কিছুটা সচল হয়েছে।”
চাঁদপুর মাছঘাটে বর্তমানে ছোট ইলিশ কেজিপ্রতি ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় ইলিশের দাম অপরিবর্তিত থেকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে।