শাহপরান
বিশেষ প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যাওয়া বিতর্কিত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে শিশুদের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি
পটুয়াখালী জেলা গলাচিপা থানা চরবিশ্বাস ইউনিয়নে মানবতাবিরোধী আচরণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাসান সরদারের বিরুদ্ধে। তিনি সম্প্রতি ইলিশ মাছ চুরির অভিযোগ তুলে দুই শিশুর হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন চালান এবং পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে—২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত—হাসান সরদার ছিলেন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে হঠাৎ করেই বিএনপির সঙ্গে যোগ দেন তিনি। রাজনৈতিক রঙ বদলালেও তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেমে নেই।
ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর হুমকি
নির্যাতনের শিকার শিশুদের নানা শাহজাহান প্যাদা বিষয়টি থানা ও সাংবাদিকদের জানান। কিন্তু অভিযোগ করার পর থেকেই তিনি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছেন।
শাহজাহান প্যাদা বলেন—
“ইউপি সদস্য হাসান সরদার আমাকে গ্রাম ছাড়ার ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি সরাসরি বলেছেন সাংবাদিকরা তার কিছুই করতে পারবে না।”
এলাকায় আতঙ্ক
গ্রামের সাধারণ মানুষ বলছেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও হাসান সরদার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য ঘটনায় জড়িত থেকেও তিনি প্রকাশ্যে দাপট দেখাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একজন ইউপি সদস্য হয়ে কীভাবে তিনি আইনকে উপহাস করছেন?
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কি তিনি প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় আছেন?
বিচার দাবি
স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন একটি অমানবিক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য—
“যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এ ধরনের দুঃসাহসী অপরাধ আরও বাড়বে। আমরা চাই, হাসান সরদারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।”
উপসংহার
শিশুদের নির্যাতন ও পরিবারের ওপর হুমকি—একজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু নিন্দনীয় নয়, আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন কি এবারও নীরব থাকবে, নাকি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অপরাধীর বিচার করবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে চরবিশ্বাসের মানুষের মুখে।