মোঃ ফারুক সরকার
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ২০২৫ ইং শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়নের মারিয়া গ্রামের কৃষক রাকিব হাসান, সাইদুল ইসলাম ও আবেদ আলীর ফসল ভেজাল কীটনাশক ওষুধ ব্যবহারের কারণে নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিকট ছুটে যান। তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কামরুজ্জামান রাজা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, আমরুল ইউনিয়ন বিএনপি, বিপুল রানা মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জাসাস শাজাহানপুর উপজেলা ও অন্যান্য স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি শীতকালীন মৌসুমে কৃষকরা আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছিলেন। ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চারা রোপণ করার পর কিছু গাছে পচন দেখা দেয়। সমস্যার সমাধানে কৃষকরা ডেমাজানী বাজারের জিয়াউর রহমান জিয়ার কীটনাশক দোকানে যান। দোকানি ও সুইট এগ্রোভেট লিমিটেডের পরিবেশকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা ‘সুইটনেব ৭৬ ডব্লিউপি’ পচননাশক পাউডার ব্যবহার করেন। কিন্তু ২-৩ দিনের মধ্যেই চারা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং জমির ঘাস পর্যন্ত পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, রাকিব হাসানের ৩০ শতক করলা ও ১০ শতক ফুলকপির চারা নষ্ট হয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সাইদুল ইসলামের ৮ শতক ফুলকপি ও ১৬ শতক করলা নষ্ট হয়ে ক্ষতি প্রায় ৮০ হাজার টাকা। আবেদ আলীর ১৬ শতক ফুলকপি নষ্ট হয়ে ক্ষতি প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অবশেষে উপজেলা কৃষি অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
কৃষকরা জানান, ভেজাল মিশ্রিত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে। কীটনাশক ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক বিক্রি করি। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা কোম্পানিকে জানানো হয়েছে।” তবে সুইট এগ্রোভেট লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী কৃষকেরা অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”