হামিদুর রহমান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগরীর জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জুয়েলার্স মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা সোয়া ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
সভায় জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, স্বর্ণের লেনদেনে সতর্কতা, সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্তকরণ, স্বর্ণপট্টি এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার এবং ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের ঘটনায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
সভায় বাজুসের রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম সুইট ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’-এ সংঘটিত চুরির ঘটনায় স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা উদ্ধারে আরএমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি চুরির ঘটনায় পুলিশের পেশাদারিত্ব, দ্রুত পদক্ষেপ ও কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মহানগরীর স্বর্ণপট্টি এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদারের জন্য পুলিশের প্রতি বিভিন্ন দাবি ও অনুরোধ জানান।
তিনি স্বর্ণপট্টি এলাকা হকারমুক্ত রাখা, বিশেষ করে শুক্রবারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, স্বর্ণপট্টির আশপাশের হোটেলগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত পুলিশি টহল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
স্বর্ণ কেনাবেচায় বিক্রেতার তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ
মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বর্ণ কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, স্বর্ণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, মোবাইল নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনবোধে বিক্রেতার ছবিও সংরক্ষণ করার জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন।
পুলিশ কমিশনার স্বর্ণের দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত ও কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দোকানে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক ঘটনা চোখে পড়লে দেরি না করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করতে হবে।
স্বর্ণপট্টিতে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি ও টহল
জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ কমিশনার।
তিনি জানান, মহানগরীর স্বর্ণপট্টি ও গুরুত্বপূর্ণ জুয়েলার্স মার্কেট এলাকায় নিয়মিত পুলিশি নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রাতে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল টিমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদেরও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
সভায় জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, সন্দেহজনক লেনদেন ও ব্যক্তির বিষয়ে সতর্কতা এবং মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের যেকোনো ধরনের অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জুয়েলার্স মার্কেট ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও জুয়েলার্স নেতৃবৃন্দ
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. মনিরুল ইসলাম; উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম, পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) দীন মোহাম্মদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. দেলোয়ার হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও সভায় রাজশাহী জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম, বাজুসের রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম সুইটসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাটি জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং পুলিশ ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।