আহমেদ আকবর
সিলেট
সিলেটে টিকিট কালোবাজারির নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
রেলওয়ে স্টেশনে কালোবাজারিরা সাবধান” হুঁশিয়ারি সংবলিত সতর্কবার্তা সাঁটানোর পরও থেমে নেই টিকিটের অবৈধ বাণিজ্য। এবার স্বয়ং রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী ও বহিরাগত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টারে “টিকিট নেই” বলা হলেও স্টেশন স্টাফ ও বাইরে থাকা দালাল চক্রের হাতে ঠিকই মিলছে কাঙ্ক্ষিত টিকিট।যেভাবে চলছে ভেতরের ও বাইরের সিন্ডিকেটঅনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বুকিং কাউন্টার থেকে ছাড়ার পরপরই তা রহস্যজনকভাবে শেষ হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের কিছু অসাধু বুকিং সহকারী ও কর্মচারী নিজেদের কোটা এবং বিশেষ উপায়ে টিকিট ব্লক করে রাখেন। পরবর্তীতে এই টিকিটগুলো স্টেশনে সক্রিয় বহিরাগত দালাল চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ৩০০ টাকার টিকিট ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং এসি ক্লাসের টিকিট দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ মূল্যে সাধারণ যাত্রীদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের ক্ষোভসিলেট স্টেশনে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক যাত্রী বলেন, “অনলাইনে এবং কাউন্টারে চেষ্টা করেও সকাল ৮টায় কোনো টিকিট পাইনি। কিন্তু কাউন্টারের বাইরে আসতেই এক দালাল আমাকে ৫০০ টাকা বাড়তি দিলে টিকিট এনে দেওয়ার গ্যারান্টি দেয়। এদের পেছনে রেলেরই ভেতরের কিছু লোকের হাত রয়েছে, তা না হলে এরা এত টিকিট পায় কোথায়?”কঠোর ব্যবস্থার দাবিসচেতন মহল মনে করছেন, দেওয়ালে শুধু সতর্কবার্তা বা পোস্টার লাগিয়ে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না রেলের ভেতরের “কালো ভেড়া”দের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী (RNB) ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই চক্রকে উপড়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।