মোঃ শাহজাহান বাশার
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত হজরত শাহ আলী (র.) মাজার-এ হামলা, ভাঙচুর ও জিয়ারতকারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শেখ মো. রাসেল ও আজম মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরমান দেওয়ান অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের গতিবিধি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে মাজারের নিয়মিত ভক্ত রেসমি বেগম বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন জামায়াত নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ মে রাতে জিয়ারত ও মানতের সময় সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে ভক্তদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় নারী-পুরুষসহ একাধিক জিয়ারতকারী গুরুতর আহত হন। মাজার প্রাঙ্গণে থাকা গাছের লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়, মোমবাতির প্লেট ভাঙচুর করা হয় এবং ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করা হয়।
বাদী রেসমি বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে এক হামলাকারী লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ভক্ত ও সাধারণ মানুষ হামলাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। ধর্মীয় স্থানে এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে।