মোঃ শাহজাহান বাশার
চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যান ভর্তি বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক দানা আত্মসাতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আত্মসাৎ হওয়া ২৬০ ব্যাগ প্লাস্টিক দানা ও একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগ।
পুলিশ জানায়, প্যারাগন প্লাস্টিক লিমিটেডের আমদানিকৃত ৫২০ ব্যাগ প্লাস্টিক দানা চট্টগ্রামের একটি ডিপো থেকে নির্ধারিত কারখানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-০৮০২ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান ভাড়া করা হয়। চালানে থাকা মালামালের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
তবে অভিযোগ ওঠে, গত ৪ মে রাত ৮টা থেকে ৮ মে দুপুর ২টার মধ্যে কাভার্ডভ্যান চালক ও তার সহযোগীরা পরস্পরের যোগসাজশে মালামাল নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে আত্মসাৎ করে। পরে এ ঘটনায় ৯ মে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পরপরই তদন্তে নামে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারেছ মো. কুসুমের নেতৃত্বে একাধিক টিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেন এসআই সৈয়দ ফকরুল ইসলাম, এসআই সজীব কুমার আচার্য্যসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১১ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমাম আলী ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ডভ্যানের চালক মো. রাশেদকে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে রাশেদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে আশরাফ আলী সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো স্থান থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানার সুদাফা পূর্বপাড়া ভাদাম রোড এলাকার একটি গোডাউন থেকে আত্মসাৎ হওয়া ২৬০ ব্যাগ প্লাস্টিক দানা এবং ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ আত্মসাতের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।