হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিল্লি উপরপাড়া গ্রামে প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে ক্যারামবোর্ড খেলার নামে জমে উঠেছে জুয়ার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের সোহেল (পিতা- এমাজউদ্দিন) বিল্লি হাটের এক কোণে টিনের ঘর তৈরি করে সেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এই অবৈধ কার্যক্রম। প্রতিদিনই সেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় বাড়ছে, আর টাকার বিনিময়ে চলছে প্রকাশ্য বাজি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যারামবোর্ড খেলার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে জুয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ লেখাপড়া ছেড়ে ওই আসরে সময় কাটাতে শুরু করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পাশেই রয়েছে ঈদগাহ মসজিদ যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। এছাড়াও অল্প দূরত্বের মধ্যেই রয়েছে কলেজ ও হাই স্কুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ওই আসরে জড়ো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী জানান, একসময় বিল্লি হাট ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পরিচিত একটি শান্ত বাজার। বর্তমানে সেখানে প্রায় দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। কিন্তু জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে বাজারের পরিবেশ দিন দিন অস্থির হয়ে উঠছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের চুরি, ছিনতাই কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
হাটের নৈশপ্রহরীরাও বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, রাত গভীর পর্যন্ত লোকজনের আনাগোনা ও হৈচৈয়ের কারণে দায়িত্ব পালন করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই ভয়ভীতি ও হুমকির সম্মুখীন হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকার মানুষ বারবার নিষেধ করেছে। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সোহেল কাউকে তোয়াক্কা করছে না। উল্টো তার বিরুদ্ধে কথা বললেই হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, এই অবাধ জুয়ার আসরের কারণে এলাকার কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নেশাসদৃশ আসক্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করছে। এতে করে পড়াশোনার প্রতি অনীহা বাড়ছে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাইমা খান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে ওই জুয়ার আসর বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে খুব দ্রুত এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে চলে যাবে। তাই প্রশাসনের দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ক্যারামবোর্ডের নামে চলা এই জুয়ার আসর উচ্ছেদ করা জরুরি।