• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মাহিকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ আশুলিয়া মডেল প্রেসক্লাবের ২১ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা সাংবাদিক মমিনুল ইসলাম মুন-এর পিতার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক বিল্লি হাটে টাকার বিনিময়ে ক্যারামবোর্ড জুয়ার আসর, যুব সমাজ ধ্বংসের আশঙ্কায় মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিচারের দাবি— মোঃ শাহজাহান বাশার এর শাহ আলী (র.) মাজারে হামলা: সিসিটিভিতে শনাক্ত, জামায়াতের ৩ নেতা গ্রেপ্তার কাভার্ডভ্যান ভর্তি প্লাস্টিক দানা আত্মসাৎ: চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৩ জন, মালামাল উদ্ধার তানোরে ডাসকো ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন কোন দেশের সাথে প্রভুত্ব নয়—রাষ্ট্রের স্বার্থেই চাই বন্ধুত্ব ফজলুল উলুম মাদরাসার কমিটি গঠন: সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আছমত আলী

মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিচারের দাবি— মোঃ শাহজাহান বাশার এর

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন

ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজার-এ যিয়ারতকারীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মব সৃষ্টির ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান বাশার। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা শুধু একটি মাজার বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর আঘাত নয়; বরং এটি বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও ইসলামের শান্তিপূর্ণ চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অলী-আওলিয়াগণের অবদান ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। উপমহাদেশে যখন মানুষ অন্ধকার, কুসংস্কার ও বিভেদের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল, তখন সুফি সাধক ও পীর-মাশায়েখগণ মানবতা, ন্যায়, ভালোবাসা, সহনশীলতা ও শান্তির বাণী নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে গেছেন। তাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই এ দেশের মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। তাই অলী-আওলিয়াদের মাজার, খানকাহ ও ধর্মীয় স্থানগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ঈমানি দায়িত্ব ও সভ্য সমাজের পরিচয়।

মোঃ শাহজাহান বাশার বলেন, “যে দেশে হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহ পরান (রহ.), হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এবং হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মতো মহান অলীদের স্মৃতি ও আদর্শ আজও মানুষকে মানবতা ও ইসলামের পথে আহ্বান জানায়, সেই দেশে মাজারে হামলা ও মব সৃষ্টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অলী-আওলিয়াদের মাজারকে কেন্দ্র করে উসকানি, হামলা, বিশৃঙ্খলা ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরির অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেও তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, “একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। যদি দেশের সম্মানিত মাজারসমূহ নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে।”

তিনি বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা কখনো সহিংসতা, ঘৃণা বা বিশৃঙ্খলাকে সমর্থন করে না। ইসলাম হলো শান্তি, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবতার ধর্ম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবতার কল্যাণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দিয়েছেন। সেই ইসলামের অনুসারী হয়ে কেউ যদি ধর্মীয় স্থানে হামলা, ভাঙচুর বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তাহলে তা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।

মোঃ শাহজাহান বাশার আরও বলেন, “আজ সময় এসেছে সকল পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম, ইসলামপ্রিয় জনতা ও শান্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। শুধুমাত্র নিন্দা বা প্রতিবাদ করলেই চলবে না; বরং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি মনে করেন, কিছু উগ্র ও বিভ্রান্ত গোষ্ঠী ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ এই বাংলার মাটিতে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে তরবারির মাধ্যমে নয়, বরং অলী-আওলিয়াদের সুন্দর আচরণ, নৈতিকতা, মানবপ্রেম ও দাওয়াতি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। তাই তাদের স্মৃতি ও আদর্শের ওপর আঘাত মানে বাংলাদেশের ইসলামী ঐতিহ্যের ওপর আঘাত।

তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ পুলিশ এবং দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দেশের যেসব মাজার ও ধর্মীয় স্থানে হামলা, মব সৃষ্টি বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে, সেসব ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা সময়ের দাবি।”

পরিশেষে মোঃ শাহজাহান বাশার বলেন, “বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় মানুষের দেশ। এই দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে এসেছে। তাই ইসলামের নামে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। অলী-আওলিয়াদের শিক্ষা মানুষকে মানবতার পথে আহ্বান করে, আর সেই শিক্ষাকেই ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd