হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় উন্নয়ন সংস্থা DASCOH Foundation-এর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থাটির অধিকাংশ কার্যক্রম এখন সভা-সেমিনার, অবহিতকরণ সভা ও প্রকল্প পরিচিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাস্তবমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিবর্তে কাগুজে রিপোর্ট ও আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সিএসও সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তানোরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডাসকো ফাউন্ডেশন। তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ এসব প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সভা-সেমিনারে সাধারণ সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাবাদী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগী ও সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) সদস্যরা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি উঠেছে। আগে আমরা দেখেছি ডাসকো ফাউন্ডেশন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জীবিকা ও নিরাপদ পানির টেকসই সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু বর্তমানে তানোর উপজেলা গেটকা প্রজেক্টের সমন্বয়কারী মশিউর রহমান কমিটিতে নিজের পছন্দের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। এতে কিছু সুবিধাভোগী সংবাদকর্মী কমিটিতে স্থান পেলেও তানোর সাংবাদিক ক্লাবের কাউকে রাখা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন,
“স্থানীয় জনগণের প্রকৃত চাহিদার পরিবর্তে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।”
তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমার জানামতে ডাসকো ফাউন্ডেশন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সুইস রেড ক্রস এবং সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (SDC)-এর মতো সংস্থাও তাদের অর্থায়ন করে থাকে। দাতা সংস্থার অর্থ যদি প্রকৃত জনগণের কল্যাণে ব্যয় না হয়ে কেবল সভা-সেমিনার আর আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটি দুঃখজনক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজন করা হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্পভিত্তিক কমিটিতে প্রকৃত অংশীজনদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে তানোরে ডাসকো ফাউন্ডেশনের গেটকা প্রজেক্ট সমন্বয়কারী মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“ডাসকো মাঠপর্যায়ে টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ করছে। সভা-সেমিনার, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও রিপোর্ট তৈরির মাধ্যমেও প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধুমাত্র সভা-সেমিনার নয়, প্রকল্পের বাস্তব ও দৃশ্যমান কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করবেন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।