মারুফ হাসান
বিশেষ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্যের ছাপ রাখে স্পেন। বল দখল, দ্রুত পাসিং এবং ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচজুড়ে তুলনামূলকভাবে নিষ্প্রভ ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের কড়া মার্কিংয়ের কারণে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি তাকে।
মিডফিল্ডে স্পেনের নিয়ন্ত্রণের ফলে আর্জেন্টিনা বারবার বল হারায় এবং আক্রমণ গড়ে তুলতে হিমশিম খায়। মেসিকে ঘিরে স্পেনের রক্ষণভাগ এতটাই সংগঠিত ছিল যে তিনি খুব কমই বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রাও নিজেদের সেরাটা দেখাতে ব্যর্থ হন।
স্পেনের লাগাতার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বারবার ফাউলের আশ্রয় নিতে দেখা যায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। মাঝমাঠে বলের দখল হারিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে একাধিকবার নিয়মভঙ্গ করতে বাধ্য হয় আলবিসেলেস্তেরা। ফলে ম্যাচের গতি বারবার থেমে যায় এবং রেফারিকেও কয়েকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।
অন্যদিকে স্পেন আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ছিল বেশ গোছানো। প্রতিটি বলের জন্য লড়াই, দ্রুত প্রেসিং এবং নিখুঁত পাসিংয়ে তারা আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে। ফলে ম্যাচের বড় একটি সময় আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারেনি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে স্পেনের দাপুটে পারফরম্যান্সের বিপরীতে নীরব ছিলেন মেসিসহ পুরো আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও স্পেনের সংগঠিত ফুটবলের সামনে তা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কে শিরোপা জিতবে, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষার বিষয়
স্পেন সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। ফলে দাপুটে ফুটবল খেলেও প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে ০-০ সমতায়। এখন দ্বিতীয়ার্ধে কে নিজেদের ভুল শুধরে শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা।