নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রয় নিশ্চিতকরণ এবং কৃত্রিম সংকট ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকিলিপি প্রদান করেছে ‘কৃষক মজুর সংহতি’ নাগেশ্বরী উপজেলা শাখা।
আজ ০৩-০৯-২০২৬ খ্রি: রোজ: বৃহস্পতিবার দুপুর: ১.০০ ঘটিকায় নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই স্মারকিলিপি হস্তান্তর করেন। স্মারকিলিপিতে স্থানীয় কৃষি খাতে চলমান সার সংকট, কালোবাজারি ও ওজনে কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়।
স্মারকিলিপিতে কৃষক মজুর সংহতির পক্ষ থেকে মূলত ১১টি দাবি জানানো হয়:
সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশু দাবী ও প্রস্তাব:
১. প্রত্যেক কৃষকের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সময়মতো নিশ্চিত করতে হবে।
২. ডিলারের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বরাদ্দকৃত সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে কি না—তা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে হবে।
৩. কোন ডিলারকে কত সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কত সার বিক্রি হয়েছে—এই তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
৪. গুদামে সার রেখে দোকানে ‘সার নেই’ বলা এবং পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করতে হবে।
৫. সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. কৃষককে সার কেনার সময় বাধ্যতামূলক রসিদ দিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ যাচাই করা যায়।
৭. কোনো ডিলারের কাছে সার শেষ হয়ে গেলে কৃষক যেন নিকটবর্তী অন্য অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে সার কিনতে পারেন—এমন ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. উপজেলা কৃষি অফিস, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত বাজার ও গুদাম মনিটরিং করতে হবে।
৯. কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নথিবদ্ধ করতে হবে। কৃষকের অভিযোগ জানানোর জন্য ইউনিয়ন, ও উপজেলা কার্যকর হটলাইন/অভিযোগ কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন।
১০. অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ও ডিলারদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১১. সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সিন্ডিকেট কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক,মো: সাইফুর রহমান দুলাল বলেন: বাংলাদেশের চলতি কৃষিবাজেটে সারের আমদানি ও ভর্তুকি বাবদ সরকার ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভর্তুকি কার্যক্রমে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারের অন্যান্য সার উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরে এই খাতে সংশোধিত বাজেটে ধরা হয়েছিলো ২৮ হাজার কোটি টাকা। সারের জন্য রাষ্ট্রীয় এই ভর্তুকির টাকা যাতে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ডিলারদের পকেটে না যেয়ে প্রকৃত কৃষকদের জন্য ব্যয় করা হয়, তার জন্য আপনাদের সচেষ্ট হতে হবে।
কাছে পর্যাপ্ত সার বিক্রয় নিশ্চিত কর কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে বিক্রেতা নির্ধারিত দামের চেয়।
স্মারকিলিপি প্রদানকালে কৃষক মজুর সংহতি নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, “বর্তমানে সার মৌসুমে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলার সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে। এতে সাধারণ কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। অবিলম্বে যদি এই অনিয়ম বন্ধ করা না হয় এবং নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া নিশ্চিত করা না হয়, তবে কৃষক মজুর সংহতি সাধারণ কৃষকদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মারকিলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার এবং বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার আশ্বাস দেন।
স্মারকিলিপি প্রদানকালে ,কৃষক মজুর সংহতি নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক,মো: মাসুদ হোসেন বিপ্লব,শফিকুল ইসলাম,বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির আহ্বায়ক,মো:সামিউল হকসহ,সদস্য গণসংহতি আন্দোলন নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার অন্যান্য সদস্যসহ৷ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ কৃষক উপস্থিত ছিলেন।